খাদ্য নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়ে এগ্রিভোল্টাইক সম্প্রসারণের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

ঢাকা, ২৯ জুলাই ২০২৬: একই জমিতে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে এগ্রিভোল্টাইক (Agrivoltaics) কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তবে তিনি বলেছেন, এগ্রিভোল্টাইক প্রকল্প বাস্তবায়নে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের অধিকার, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং সুফলের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল এগ্রিভোল্টাইকস ওয়ার্কশপ: এক্সপ্লোরিং লোকাল অ্যাকশন মডেল ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় সরকারি প্রতিনিধি, গবেষক, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততার বিস্তার, খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ ও পরিবর্তিত বৃষ্টিপাতের মতো নানা ঝুঁকির মুখোমুখি। এসব কারণে কৃষি, পানিসম্পদ, অবকাঠামো ও গ্রামীণ জীবিকার ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানির চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি জানান, এনডিসি ৩.০ অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট জ্বালানির ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দেশের সীমিত ভূমি ও উচ্চ জনঘনত্বের বাস্তবতায় বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে উৎপাদনশীল কৃষিজমির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা সৃষ্টি না হয়।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এগ্রিভোল্টাইক এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে একই জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কৃষিকাজ একসঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এটি পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে, পানির ব্যবহার দক্ষ করতে, বাষ্পীভবন কমাতে এবং কৃষকের অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫-এ এগ্রিভোল্টাইককে সম্ভাবনাময় নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি প্রকল্পে কৃষিকাজ অব্যাহত রাখা এবং সৌর প্যানেলের নকশা, উচ্চতা ও অবস্থান এমনভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যাতে ফসল উৎপাদনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এগ্রিভোল্টাইক প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে কৃষকদের। কোনো প্রকল্পের কারণে কৃষক যেন জমির ওপর অধিকার হারিয়ে না ফেলেন কিংবা সীমিত সুবিধা পান—তা নিশ্চিত করতে হবে। বরং কৃষিভিত্তিক জীবিকা সুরক্ষার পাশাপাশি এসব প্রকল্প থেকে কৃষকের দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, এগ্রিভোল্টাইক থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সৌরচালিত সেচ, হিমাগার, ফসল শুকানো, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন গ্রামীণ উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের মানুষের সহনশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।

পরিবেশমন্ত্রী আরও বলেন, এগ্রিভোল্টাইকের সম্প্রসারণে উপযুক্ত অর্থায়ন ও ব্যবসায়িক মডেল প্রয়োজন। প্যারিস চুক্তির আর্টিকেল-৬ এবং জয়েন্ট ক্রেডিটিং মেকানিজম (JCM)-এর মতো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্বন অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে পরিবেশগত অখণ্ডতা, স্বচ্ছতা, অতিরিক্ততা, কার্যকর পর্যবেক্ষণ এবং দ্বৈত গণনা পরিহার নিশ্চিত করে বাংলাদেশের জাতীয় কার্বন বাজার কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল স্ট্র্যাটেজিস (আইজিইএস) ও এইচএসবিসি বাংলাদেশ। এতে সহযোগিতা করে পরিবেশ অধিদপ্তর, টেরা জাপান এবং ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশন।

কর্মশালায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়, জাপান দূতাবাস, জাইকা, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই), গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাত, বেসরকারি খাত এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

seventeen − seven =