দর্শক-শ্রোতাদের অনুরোধে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম গান পরিবেশন করেন
আর্টিস্ট ক্লাবের নিয়মিত সান্ধ্যকালীন সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘সন্ধ্যা প্রদীপ’-এর সর্বশেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হয় গত ৩১ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) রাজধানীর আর্টিস্ট ক্লাব লাউঞ্জে। দেশের জনপ্রিয় আধুনিক গানের দুই নন্দিত শিল্পী রফিকুল আলম ও প্রতিতি বিশ্বাস-এর অনবদ্য পরিবেশনায় সুর, আবেগ ও নস্টালজিয়ায় ভরে ওঠে পুরো সন্ধ্যা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিতি বিশ্বাস তার জনপ্রিয় দশটি গান পরিবেশন করে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। এরপর মঞ্চে আসেন বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম। তিনি তার জনপ্রিয় দশটি গান পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের করতালিতে সিক্ত হন। দুই শিল্পীর পরিবেশনায় আর্টিস্ট ক্লাব লাউঞ্জ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সঙ্গীত আসরে। পরিবেশিত উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে ছিল ‘এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের কী মূল্য আছে’, ‘যেটুকু সময় তুমি থাকো কাছে’, ‘চার দেয়ালের মাঝে আমার বিশাল পৃথিবী’, ‘তোমাকে যেন ভুলে না যাই’ ইত্যাদি।
অনুষ্ঠান চলাকালীন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে হঠাৎ করেই আর্টিস্ট ক্লাবে উপস্থিত হয়ে শিল্পী, আয়োজক ও উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের আনন্দঘন চমক উপহার দেন। তিনি কিছু সময় শিল্পীদের পরিবেশনা উপভোগ করেন এবং শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিক মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
পাশাপাশি তিনি জানান, আর্টিস্ট ক্লাবের নিজস্ব স্থায়ী জায়গা বরাদ্দের জন্য জমা দেওয়া আবেদনটি বর্তমানে তাঁর টেবিলে রয়েছে এবং বিষয়টি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে।
দর্শক-শ্রোতাদের আন্তরিক অনুরোধে প্রতিমন্ত্রী পরবর্তীতে নিজেও মঞ্চে উঠে দুটি গান পরিবেশন করেন। তার এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে এবং উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করতালিতে মিলনায়তন মুখরিত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আর্টিস্ট ক্লাবের সভাপতি ও নন্দিত কণ্ঠশিল্পী সুজিত মুস্তাফা। তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা, শিল্পীদের অনবদ্য পরিবেশনা এবং দর্শক-শ্রোতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো সন্ধ্যাটি হয়ে ওঠে আরও উপভোগ্য ও প্রাণবন্ত।
‘সন্ধ্যা প্রদীপ’ আর্টিস্ট ক্লাবের নিয়মিত সান্ধ্যকালীন সাংস্কৃতিক আয়োজন, যেখানে দেশের বরেণ্য ও জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য এক উষ্ণ ও প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এই ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলা গান, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে আর্টিস্ট ক্লাব।