মিউজ এআই চালুর পর মেটার শেয়ারের দাম আকাশচুম্বী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটার শেয়ারের দাম চলতি সপ্তাহে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফিরে এসেছে। কোম্পানিটির নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সহকারী বা এজেন্ট ‘মিউজ’ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহের কারণেই শেয়ারের দাম বেড়েছে। এএফপি।

মিউজের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের বাইরেও নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মেটার শেয়ারের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে সোমবার শেয়ারের দাম এক লাফে ১১ শতাংশের বেশি বাড়ে, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এক দিনে সবচেয়ে বড় উত্থান।

বর্তমানে মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭৭৮ ডলার। মার্চের শেষ দিকে শেয়ারের দাম প্রায় ৫২৫ ডলারে নেমে গিয়েছিল। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর প্রভাব নিয়ে দুটি আদালতের রায়ের পর ওই দরপতন হয়েছিল।

জুলাইয়ের শেষ দিকেও মেটার শেয়ারে আবার পতন ঘটে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপুল ব্যয়ের কারণে কোম্পানিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব চাপে পড়ায় ওই পতন হয়। চলতি বছর এআই খাতে মেটার ব্যয় ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

মেটার আয়ের প্রায় পুরোটাই বিজ্ঞাপননির্ভর। ফলে এআই খাতে এত বিপুল বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি শেষ পর্যন্ত কতটা আর্থিক সুবিধা পাবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর কানাডায় মিউজ চালু করা হয়। বর্তমানে এই দুই দেশেই এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে।

মিউজ একটি বহুমুখী এআই সহকারী বা ‘এজেন্ট’, যা ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজ করতে পারে। যেমন—ভ্রমণের বুকিং দেওয়া, ই-মেইল পাঠানো কিংবা অনলাইনে কেনাকাটা করা।

শুধু ১৮ বছরের বেশি বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য মিউজ উন্মুক্ত। এটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও ব্যবহারের সীমা রয়েছে। বেশি ব্যবহারের জন্য মাসে ২০ ডলার বা ১০০ ডলারের দুটি ঐচ্ছিক সাবস্ক্রিপশন সুবিধা রয়েছে।

অ্যাপ বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপটোপিয়া জানিয়েছে, চালুর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে উত্তর আমেরিকায় আইফোনে মিউজ ১৮ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে। তুলনায়, ওপেনএআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ২০২৩ সালের মে মাসে অ্যাপ হিসেবে চালুর পর একই সময়ে ১৩ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছিল।

বুধবার মেটার বার্ষিক ‘কানেক্ট’ সম্মেলনে কোম্পানিটি জানায়, শিগগিরই মিউজ তাদের স্মার্ট চশমাতেও ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে ওয়ালমার্টের মতো খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে অংশীদারত্বের কথাও জানিয়েছে মেটা। এর ফলে মিউজের মাধ্যমে হওয়া কেনাকাটা থেকে কমিশন আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে অনলাইন বাণিজ্য জায়ান্ট অ্যামাজন রোববার মিউজকে তাদের ওয়েবসাইট ব্যবহারে বাধা দেয়। অ্যামাজনের অভিযোগ, মেটার এআই এজেন্ট ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সময় নিজেকে এআই এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দেয়নি এবং গ্রাহকদের লগইন তথ্য সংরক্ষণ করেছে। মেটা অবশ্য বলেছে, মিউজ ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড বা পেমেন্টের তথ্য দেখতে পায় না।

বৃহস্পতিবার বিনিয়োগ ব্যাংক জেপিমরগ্যান মেটার শেয়ারের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৯২০ ডলার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, মিউজ ‘চ্যাটজিপিটির পর ভোক্তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এআই অ্যাপ্লিকেশন’ হয়ে উঠতে পারে।

তবে অন্য কয়েকজন বিশ্লেষক এখনো এ বিষয়ে সংশয়ী। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওপেনহাইমারের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অন্য অ্যাপের পাসওয়ার্ড মেটার কাছে সংরক্ষণ করতে আস্থা রাখেন। অথচ এ ধরনের এআই সহকারী বা এজেন্টকে ব্যবহারকারীর হয়ে কাজ করতে এসব তথ্যের প্রয়োজন হতে পারে। একই জরিপে গুগলের ক্ষেত্রে এই আস্থার হার ছিল ৩০ শতাংশ।

মিউজের সম্ভাব্য প্রসারের ক্ষেত্রে মেটার বিশাল ব্যবহারকারীভিত্তি একটি বড় সুবিধা হতে পারে। কোম্পানিটির দাবি, তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন ৩৬০ কোটির বেশি মানুষ সক্রিয় থাকেন।

২০২৩ সালে মেটা থ্রেডস চালু করে। ইলন মাস্ক টুইটার কেনার কয়েক মাস পর এক্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে থ্রেডস চালু করা হয়। মাত্র পাঁচ দিনে থ্রেডসে ১০ কোটি সাইনআপ হলেও পরে এর প্রবৃদ্ধির গতি কমে যায়। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে থ্রেডসের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল প্রায় ১৪ কোটি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × 2 =