সময় ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে ব্রাজিলের ক্ষমতার শীর্ষে লুলা

ঢাকা, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ – দারিদ্র্য, শ্রমিক আন্দোলন, কারাবাস ও রাজনৈতিক সংকট পেরিয়ে আবারও ব্রাজিলের রাজনীতির শীর্ষে উঠে এসেছেন প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। নজিরবিহীনভাবে চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে প্রায় ৮১ বছর বয়সেও দেশটির রাজনীতিতে নিজের প্রভাব ধরে রাখলেন এই বামপন্থী নেতা। খবর বাসস

প্রথম দফার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর কাছে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয় দফায় জয় নিশ্চিত করেন লুলা। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা বাড়িয়ে তরুণ ও ডিজিটালনির্ভর ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন তিনি।

পার্নামবুকোর দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া লুলা শৈশবে জুতা পালিশ ও চিনাবাদাম বিক্রি করেছেন। পরে ধাতুশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হয়ে ওঠেন। ২০০৩ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর সরকারের সামাজিক কর্মসূচির আওতায় প্রায় তিন কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৬ সালে তিনি দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন।

তবে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা বিতর্কমুক্ত ছিল না। দুর্নীতির মামলায় কারাবাসের পর আদালতের সিদ্ধান্তে তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ বাতিল হয়। ২০২২ সালে অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। তৃতীয় মেয়াদে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা, আমাজন বন ধ্বংস কমানো এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার উদ্যোগ তাঁর সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

তবে সরকারি ঋণ, উচ্চ সুদ, দুর্নীতি নিয়ে জনঅসন্তোষ এবং রাজনৈতিক বিভাজন তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। উত্তরসূরি গড়ে না তোলার বিষয়টিও তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

লুলার সর্বশেষ জয় ব্রাজিলের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি দেশটির গভীর রাজনৈতিক বিভাজন, সামাজিক বৈষম্য এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nineteen − 14 =