বাংলাদেশের অর্জন গ্রুপ অফ এইটে খেলা

সালেক সুফী

ছন্নছাড়া বাংলাদেশ দল, আগা মাথা কিছু নেই, দলের টপ অর্ডার, বটম অর্ডার নড়বড়ে। সেই দলটির কয়েকজন বোলারের সম্মিলিত সক্রিয়তায় বাংলাদেশ গ্রুপ পর্যায়ের গণ্ডি  পেরিয়ে গ্রুপ অফ এইটে খেলেছে সেটি কম অর্জন বলবো না। গ্রুপের প্রথম খেলাটিতে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে জয়, পরের খেলায় শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে খেলা কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কম কিছু ছিল না।  আবেগ দিয়ে নয় বাস্তবতার নিরিখে বিচার করলে অস্ট্রেলিয়া, ভারত এমনকি এই মুহূর্তে উজ্জীবিত আফগানিস্তান দলের বিরুদ্ধে জয় বাংলাদেশের সামর্থের বাইরে ছিল।

আমি আদৌ বিস্মিত হয়নি দলের করুণ পরিণতিতে।  তবে শেষ ম্যাচে না চাইতেই জলের মতো এসেছিল দ্রুত ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ। বাংলাদেশ দলের মধ্যে জয়ের ক্ষুধা দেখলাম না। দ্রুত ম্যাচ জেতা দূরের কথা আনাড়ির মতো খেলে হেরে গেলো ম্যাচ।  এই ধরনের দল নিয়ে আর সহসা উঁচু আশা করার দুঃসাহস করে মন ভেঙে ফেলা উচিত হবে না|

যেভাবে ফর্মহীন, নড়বড়ে ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে গিয়েছিল সেই প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলা অর্জনই বলতে হবে| বাংলাদেশ যে নেপাল, নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে পড়েনি সেটি ‘মায়ের দোয়া’ ট্যাগ অর্জনকারী দলের সৌভাগ্য।

এক দুই তিন যার নড়বড়ে ৪, ৫, ৬ সেই দলকে কতদূর নিতে পারে। ১৫০ রান নিয়মিত করার সক্ষমতা নেই যে দলের বিশ্বকাপে সেই দল যতটুকু অর্জন করেছে সেটি বড় কথা। এহেন দলের জন্য প্রচুর ডলার খরচ না করে সেই অর্থ দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করলে ভালো অর্জন হবে।

ভাবতে অবাক লাগে টুর্নামেন্ট চলাকালে বিতর্কিত হেড কোচ চন্দ্রিকা হাতুরাসিংহে বললো ‘দ্বিতীয় রাউন্ডে উন্নীত হওয়ায় দলের টার্গেট পূরণ হয়েছে। বাকি কিছু অর্জন হবে বোনাস’। বাংলাদেশ সেই বোনাস অর্জনে আদৌ আগ্রহী ছিল না। দলের কোন পরিকল্পনা বা কৌশল আদৌ দেখা যায়নি একটি ম্যাচ জয়ের।

ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে টস জয় করেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে কোন কৌশলে ব্যাটিং করতে দেওয়া হয়েছিল? রোহিত, ভিরাটের মতো বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে কেন দুই স্পিনার দিয়ে বোলিং শুরু করা হলো? ভারত দলকে যুদ্ধ ছাড়া কেন ম্যাচ উপহার দেওয়া হলো। অস্ট্রেলিয়ার কথা বাদ দিলাম। বাংলাদেশ জিতবে এটি কেউ আশা করেনি।

এতোকিছুর পরেও সুযোগ এসেছিল আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট  সমীকরণে ম্যাচ জয় করে সেমি ফাইনালে উন্নীত হবার। ১১৫/৫ রানে সীমিত আফগান স্কোরকে ১২.১ ওভারে টপকে গেলে বাংলাদেশ খেলত সেমি ফাইনাল। ১০ উইকেট হাতে নিয়ে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে ম্যাচ হারলে কেউ কিছু বলত না।

কি করলো বাংলাদেশ না পারলো সেই লক্ষ্যে নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করতে, না পারলো স্বাভাবিক ধারায় খেলে ম্যাচ জয় করতে। পেরেছে ১০৫ রানে অল আউট হয়ে অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে ডুবে যেতে। আমি আফগানিস্তানের জয়কে প্রকৃতির ন্যায় বিচার বলবো। সাহসী দলটি সেমি ফাইনাল শুধু নয় ফাইনাল খেলুক আশীর্বাদ করি। বাংলাদেশ দলের খোলনলচে পাল্টে ফেলার দাবি জানাচ্ছি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 − eleven =