ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞতার বিপক্ষে নরওয়ের স্বপ্ন, সেমিফাইনালের টিকিট কার?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই ভিন্নধর্মী শক্তি—ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর ৩টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই। ম্যাচের বিজয়ী নিশ্চিত করবে সেমিফাইনালের টিকিট।

একদিকে ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠার স্বপ্নে বিভোর নরওয়ে। ফলে ম্যাচটি কেবল নকআউট পর্বের আরেকটি লড়াই নয়; এটি ঐতিহ্য ও নতুন ইতিহাস গড়ার আকাঙ্ক্ষারও মুখোমুখি সংঘর্ষ।

শেষ ষোলোতে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহামের জোড়া গোল এবং হ্যারি কেইনের পেনাল্টি থেকে পাওয়া গোল দলকে জয় এনে দেয়। শেষ তিন ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করা ইংল্যান্ড আত্মবিশ্বাসী হলেও নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের সাম্প্রতিক রেকর্ড খুব স্বস্তিদায়ক নয়।

অন্যদিকে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি নরওয়ে। শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে স্টালে সোলবাক্কেনের দল। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করে নায়ক হন আর্লিং হালান্ড, যিনি এবারের আসরে সাত গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও অন্যতম দাবিদার।

তবে নরওয়ে শুধু হালান্ডনির্ভর নয়। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা, সান্দের বের্গের নিয়ন্ত্রণ এবং আলেকজান্ডার সোরলথের উপস্থিতি দলটির আক্রমণকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ৪-৩-৩ কিংবা ৪-২-৩-১ ছকে খেলতে পারার সক্ষমতাও নরওয়েকে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করেছে।

ইতিহাস অবশ্য ইংল্যান্ডের পক্ষেই কথা বলে। বিশ্বকাপে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নরওয়ে এখনো জয় পায়নি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ চার ম্যাচেও গোল করতে পারেনি তারা। তবে বর্তমান ফর্ম ও আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত নরওয়ে এবার সেই পরিসংখ্যান বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

দল নির্বাচনেও রয়েছে কিছু প্রশ্ন। লাল কার্ডের কারণে জ্যারেল কোয়ানসাহকে পাচ্ছে না ইংল্যান্ড। রিস জেমসের খেলা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা, যদিও মার্ক গেহি ও ডেকলান রাইসের মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ব্রাজিল ম্যাচে চোট পাওয়া ডেভিড মোলার উলফ অনুশীলনে ফিরেছেন, ফলে প্রায় পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামতে পারবে নরওয়ে।

সব মিলিয়ে মায়ামির কোয়ার্টার ফাইনালটি হতে যাচ্ছে আর্লিং হালান্ড ও জুড বেলিংহামের তারকাদ্বৈরথ, অভিজ্ঞতার বিপক্ষে তারুণ্যের চ্যালেঞ্জ এবং বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠার লড়াই। এখন দেখার বিষয়, ইংল্যান্ড তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারে, নাকি নরওয়ে আরও একটি ইতিহাস রচনা করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × 1 =