ইয়ামালের বিশ্বকাপ ইতিহাস: মেসিকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড গড়লেন স্প্যানিশ বিস্ময়বালক

স্পেনের উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামাল বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়ে ফুটবল বিশ্বে আরও একবার নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে গোল করে তিনি আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসির একটি বিশ্বকাপ রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম কনিষ্ঠ গোলদাতার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

ম্যাচের ১০ মিনিটেই জালের দেখা পান বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড। গোল করার সময় ইয়ামালের বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৪৩ দিন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অষ্টম কনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম লেখান।

এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি পেছনে ফেলেছেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকে। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করার সময় মেসির বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৫৭ দিন। ফলে মাত্র ১৪ দিনের ব্যবধানে মেসির রেকর্ড অতিক্রম করলেন ইয়ামাল।

একই সঙ্গে স্পেনের ইতিহাসে দ্বিতীয় কনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতার মর্যাদাও পেয়েছেন তিনি। এ তালিকায় তার ওপরে রয়েছেন কেবল গাভি। ২০২২ বিশ্বকাপে কোস্টারিকার বিপক্ষে গোল করার সময় গাভির বয়স ছিল ১৮ বছর ১১০ দিন।

তবে বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড এখনো ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের দখলেই রয়েছে। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর ২৩৯ দিন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গোল করা একমাত্র ফুটবলারও তিনি।

এদিকে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই সৌদি আরবের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ইয়ামালের রেকর্ডগড়া গোলের পর মিকেল ওইয়ারসাবালের জোড়া গোলে স্পেন তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করে এবং শেষ পর্যন্ত স্বস্তিদায়ক জয় নিশ্চিত করে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের শীর্ষ ১০ কনিষ্ঠ গোলদাতা

১. পেলে (ব্রাজিল) — ১৭ বছর ২৩৯ দিন

২. ম্যানুয়েল রোসাস (মেক্সিকো) — ১৮ বছর ৯৩ দিন

৩. গাভি (স্পেন) — ১৮ বছর ১১০ দিন

৪. ইব্রাহিম এমবায়ে (সেনেগাল) — ১৮ বছর ১৪৩ দিন

৫. মাইকেল ওয়েন (ইংল্যান্ড) — ১৮ বছর ১৯০ দিন

৬. নিকোলাই কোভাকস (রোমানিয়া) — ১৮ বছর ১৯৭ দিন

৭. দিমিত্রি সিচেভ (রাশিয়া) — ১৮ বছর ২৩১ দিন

৮. লামিন ইয়ামাল (স্পেন) — ১৮ বছর ৩৪৩ দিন

৯. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) — ১৮ বছর ৩৫৭ দিন

১০. জুলিয়ান গ্রিন (যুক্তরাষ্ট্র) — ১৯ বছর ২৫ দিন

ইয়ামালের এই অর্জন শুধু একটি ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, বরং স্পেনের ভবিষ্যৎ ফুটবল শক্তিরও একটি উজ্জ্বল ইঙ্গিত। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন প্রভাব বিস্তার করে তিনি নিজেকে আগামী দিনের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + seven =