উনদাভের জোড়া গোলে আইভরি কোস্টকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জার্মানি

সালেক সুফী

দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে জার্মানি। টরোন্টোতে অনুষ্ঠিত ‘ই’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।

১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী জার্মানি টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে অভিষেক দল কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল। অন্যদিকে আইভরি কোস্ট দক্ষিণ আমেরিকার দল ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নেমেছিল।

২০০৬ সালের পর বিশ্বকাপে টানা দুটি ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায়নি জার্মানি। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল তারা। একই সঙ্গে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার হতাশাজনক অধ্যায়েরও ইতি টানল জার্মানরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে আধিপত্য ছিল আইভরি কোস্টের। সংগঠিত আক্রমণ ও দৃঢ় রক্ষণভাগের সমন্বয়ে তারা জার্মানদের চাপে রাখে। ৩০ মিনিটে ফ্রাঙ্ক কেসির গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। বক্সের ভেতরে জটলার মধ্যে ফিরতি বলে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান তিনি।

গোল হজমের পর পাল্টা আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে জার্মানি। কাই হাভার্টজ বল জালে জড়ালেও গোলটি বাতিল হয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ড আগে আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার ইমানুয়েল আগবাদুর ওপর ফাউলের কারণে রেফারি গোলটি অনুমোদন করেননি।

প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আইভরি কোস্ট। এমনকি ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগও ছিল তাদের সামনে। তবে বড় দলের বিপক্ষে সুযোগ নষ্ট করলে যে তার মূল্য দিতে হয়, সেটিই শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানি আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালে কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে আইভরি কোস্ট। ৬৮ মিনিটে নাদিম আমিরির নিখুঁত ক্রস থেকে বদলি খেলোয়াড় ডেনিজ উনদাভ দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে সমতাসূচক গোল করেন।

সমতায় ফেরার পর জয়ের লক্ষ্যে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জার্মানি। নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময়ে আবারও গোল করেন উনদাভ। তাঁর জোড়া গোলেই শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে জার্মানরা।

জার্মান লিগে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করার জন্য উনদাভের সুনাম রয়েছে। এবারও তিনি প্রমাণ করলেন, ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার সামর্থ্য তাঁর রয়েছে।

অন্যদিকে ভালো খেলেও পরাজয়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আইভরি কোস্টকে। তবে তাদের সামনে এখনো সুযোগ রয়েছে। শেষ ম্যাচে কুরাসাওকে হারাতে পারলে পরবর্তী পর্বে ওঠার সম্ভাবনা টিকে থাকবে।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানি বরাবরই টুর্নামেন্ট যত গভীরে যায়, ততই নিজেদের সেরাটা মেলে ধরে। সামনে ফ্রান্স কিংবা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তবে জার্মানদের লড়াই করে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার মানসিকতার সঙ্গে যারা পরিচিত, তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখতেই পারেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × 1 =