কাজী নজরুল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শক্তির উৎস ও অনুপ্রেরণা: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শক্তির উৎস ও অনুপ্রেরণা।

জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যে কোনো আন্দোলন ও সংগ্রামে প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি জীবনভর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, যে কোনো অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন তিনি। নজরুল যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রধান অনুপ্রেরণাও।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান, কাজী নজরুলই ছিল মূল অনুপ্রেরণা। আজও দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে কেউ ষড়যন্ত্র করলে কাজী নজরুলের বাণী রুখে দাঁড়াতে শেখায়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আমাদের শক্তির একটি উৎস। আমি এবং আমার দল আজকে নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

রিজভী বলেন, কাজী নজরুলের মত মহীরুহ প্রতিভা সম্পর্কে যে চর্চা ও অনুশীলন প্রয়োজন, দেশে সেটি আবার শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের প্রেরণা। তাঁর লেখনি, তাঁর সাহিত্যকর্ম এবং তাঁর বাণী বুকে নিয়ে আমরা পথ চলি। নজরুল আমাদেরকে নির্ভয় করে, সামনে এগিয়ে যেতে নির্ভীক করে।

কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর সময় রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী সমাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীগণ।

উল্লেখ্য, ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ সালের ২৫ মে) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম। ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি।

কবি কাজী নজরুল ইসলাম সৃষ্টিশীল ছিলেন মাত্র ২৩ বছর। নজরুলের এই ২৩ বছরের সাহিত্যজীবনের সৃষ্টিকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

কবি নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলেছে। একইসঙ্গে তিনি ছিলেন চিরপ্রেমেরও কবি।

ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র না ফেরার দেশে পাড়ি জমান দ্রোহ ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ten + 17 =