ঢাকা, ৩১ জুলাই, ২০২৬ – নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পের সক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) পোশাক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ। এতে তুলাভিত্তিক পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব পোশাকশিল্প দ্রুত তুলাভিত্তিক পণ্য থেকে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাকের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য নতুন রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনের বড় সুযোগ তৈরি করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এমএমএফ পোশাক বাজারের আকার প্রায় ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি কৌশলের অংশ হিসেবে এ খাতে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক এমএমএফ বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই হবে এবং পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি শক্তিশালী হবে।
গবেষণায় বাংলাদেশকে এমএমএফ পোশাক উৎপাদনের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়েছে। এতে নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে এমএমএফ কাঁচামালের শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, দেশে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার ও সিনথেটিক সুতা উৎপাদন বাড়ানো, সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো মূলত তুলাভিত্তিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বৈশ্বিক বাজারে সিনথেটিক ও মিশ্র তন্তুর পোশাকের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ফলে এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য পরিবেশে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এমএমএফ খাতের সম্প্রসারণ সময়ের দাবি।
প্রতিবেদনে এমএমএফ উৎপাদনকারীদের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত ঋণ কর্মসূচি চালু, প্রযুক্তি স্থানান্তরে উৎসাহ দেওয়া এবং অ্যাকটিভওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের মতো উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের রোডম্যাপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশকে কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।