সালেক সুফী
অস্ট্রেলিয়া ২ তুরুস্ক ০
কানাডার ভ্যাঙ্কুবারে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা কুশলী খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া তুরস্ক। খেলার অধিকাংশ সময় আক্রমণের প্লাবন সৃষ্টি করেও সকারুজদের নিচ্ছিদ্র রুক্ষনভাগ ভেদ করে গোল পায়নি তুরস্ক। উপরন্ত কৌশলে প্রতি আক্রমণ থেকে নেস্তুরি ইরানকুন্ডা ও কনর মেটকাফ গোল করে অস্ট্রেলয়াকে ২-০ ব্যাবধানে বিজয় এনে দিয়েছে। তুর্কি বাহিনীর ক্রমাগত আক্রমণের মুখে বাধার পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্যাট্রিক বীচ। পূর্ণ পয়েন্টস নিয়ে এখন সুবিধা জনক অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া। এক ম্যাচ করে খেলার পর শীর্ষে আছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। প্যারাগুয়েকে শক্তিশালী মনে হয়নি। আজ গোল করতে ব্যর্থ হলেও পরের ম্যাচগুলোতে হয়ত ফিরে আসবে তুরুস্ক। অস্ট্রেলিয়া -যুক্তরাষ্ট্র খেলা হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে এতটুকু বলতেই পারি।
২০০২ বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়ে চমকে দিয়েছিল তুরস্ক। এরপর দীর্ঘ ২৪ বছর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা মেলেনি তাদের। শক্তিশালী দল নিয়ে ২৪ বছর পরে প্রত্যাবর্তন দক্ষ গোল দাতার অভাবে রাঙ্গাতে পারলো না।
ম্যাচের শুরু থেকে অধিকাংশ সময় আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে তুরস্ক। অস্ট্রেলিয়া রক্ষোভাগ সুরক্ষিত রেখে মাঝে মাঝে তীব্র গতিতে প্রতিআক্রমণ করেছে। তুরস্কের অধিকাংশ আক্রমণ ভেঙে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম রক্ষণ দুর্গে। তরুণ গোল রক্ষক প্যাট্রিক বীচ একাই গোল সম্ভব্য আক্রমণ রুখে দিয়েছে।
ম্যাচের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া কোচ টনি পপোভিচ অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও গোলকিপার ম্যাথু রায়ানের পরিবর্তে ঝুঁকি নিয়ে প্রথম একাদশে জায়গা দেন বিচকে। সহ-অধিনায়ক জ্যাকসন আরভাইনকেও শুরুর একাদশে নামাননি। তিনি তাঁর জায়গায় খেলান ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার পল ওকন-ওকন–ইংস্টলারকে। ম্যাচে খেলা ১০ জনের কাল অভিষেক হয়। কোচের ঝুঁকি নিয়ে জুয়া খেলা সার্থক হয়েছে। আস্থার প্রতিদান দিয়েছে সকারুজ পরিবর্তিত স্কোয়াড।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল তুরস্ক। তুরুস্কের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান বিচ। অস্ট্রেলিয়ার কৌশল ছিল সুযোগ বুঝে প্রতি আক্রমণ। ২৭ মিনিটে ওকন-ওকন–ইংস্টলারের নিখুঁত দীর্ঘ পাস ধরে তুরস্কের রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে যান ইরানকুন্ডা। এরপর শান্ত মাথায় বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ এগিয়ে দেয়। আহত বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পরে তুর্কী বাহিনী। কিন্তু প্রথমার্ধের বাকি সময় এবং দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে ক্রমাগত আক্রমণ করেও অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ দুর্গ ভাঙ্গতে পারেনি তুর্কি বাহিনী। উপরুন্ত ৭৫তম মিনিটে মাঝমাঠে বল পেয়ে সামনে এগিয়ে যান কনর মেটকাফ। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তাঁর দুর্দান্ত শট জালে জড়ালে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। সেখানেই নির্ধারিত হয় খেলার ভাগ্য। খেলা জয় করতে হলে মেধার সঙ্গে প্রয়োজন সাহস আর কৌশল। সেটি অস্ট্রেলিয়ার জয় থেকে প্রমান হয়েছে।