জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় করণীয় বিষয়াদির দিকনির্দেশনায় সংসদীয় কমিটি

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় করণীয় বিষয়াদি সুপারিশের জন্য সরকারী এবং বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে সংসদীয় কমিটি গঠিত হয়েছে। ৫+৫=১০ সমান সংখক সাংসদের নিয়ে গঠিত কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে সামগ্রিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিটি: সভাপতি সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। কমিটির সদস্যরা হলেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; লক্ষীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান); শরীয়তপুর-৩ আসনের মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু; মানিকগঞ্জ-২ আসনের মঈনুল ইসলাম খান; ঢাকা-১২ আসনের মো. সাইফুল আলম; চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. নুরুল ইসলাম; ঢাকা-১৬ আসনের মো. আব্দুল বাতেন; কুমিল্লা-৪ আসনের মো. আবুল হাসনাত ও সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান।

আমলাতন্ত্রের নিরংকুশ প্রভাবে প্রভাবিত জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরে ভ্রান্ত নীতি আর কৌশলের বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ জ্বালানি সঙ্কট বিরাজ করছে।  বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কিছু উদ্যোগ বাদ বিচার না করেই বাতিল করে দেওয়ায় এবং আগস্ট ২০২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত কোন নতুন উদ্যোগ না নেওয়ায় বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগেই জ্বালানি সংকট এমনিতেই তীব্র আকার ধারণ করেছিল।

দুর্ভাগ্য বর্তমান সরকারের পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই শুরু হলো সর্বগ্রাসী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র+ইসরায়েল যুদ্ধ। রকেট গতিতে বেড়ে গেলো বিশ্ববাজারে জ্বালানি মূল্য। তার চেয়েও বড় সঙ্কট যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল রুদ্ধ হলে ভেঙে পড়লো জ্বালানি সরবরাহ চেন। প্রায় ৬০% আমদানি জ্বালানি নির্ভর বাংলাদেশ অধিকাংশ তরল জ্বালানি, এলএনজি, এলপিজি আসে আরব এবং পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। নতুন সরকার ভুল পরামর্শে শুরুতে কিছু হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরিস্থিতি লেজে গোবরে করে ফেলে।

শুরু থেকেই সংকটের ব্যাপ্তি এবং গুরুত্ব সঠিক ভাবে অনুধাবন করে সরকার সর্বদলীয় কমিটি গঠন করে পরিস্থিতি সামাল চেষ্টা করলে ভালো ফল  যেতো। যাহোক অবশেষে সুমতি মিলেছে। কমিটি স্বল্প সময়ে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারসদের সঙ্গে আলাপ করে সঠিক দিক নির্দেশনামূলক সুপারিশ প্রদান করলে জাতি উপকৃত হবে। কমিটির কাছে একজন প্রবাসী জ্বালানি পরামর্শক হিসাবে কিছু পরামর্শ দেওয়া সমীচীন মনে করছি।

যতটুকু জ্বালানি আছে বা সীমিত আর্থিক সামর্থ বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প সূত্র থেকে যতটুকু জ্বালানি সংগ্রহ সম্ভব তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যাবহার নিশ্চিত করতে হবে।  জ্বালানি সাপ্লাই চেনের  নিবিড় এবং কার্যকরী তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ এবং যানবাহন খাতকে প্রাধিকার দিয়ে অপচয় এবং চুরি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

দেশের নিজস্ব জ্বালানি বিশেষত গ্যাস, কয়লা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি আহরণ এবং ব্যবহারের জন্য চালু কাযক্রমগুলো প্রাধিকার ভিত্তিতে বেগবান করার পথনকশা তদারকির আওতায় আনতে হবে। নিজেদের সম্পদ মাটির নিচে রেখে আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না।

গ্যাসের অভাব দ্রুত মেটানো যাবে না তবে গ্যাস যেন দক্ষভাবে বিদ্যুৎ, সার এবং শিল্পে ব্যবহার করা হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

গ্যাস এবং জ্বালানির মতো কারিগরী ঘন কার্যক্রমে আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ এবং খবরদারি কমিয়ে পেশাদার এবং বিশেষজ্ঞদের বিপিডিবি, পেট্রোবাংলা এবং বিপিসিকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দিতে হবে।

বিদ্যুৎ জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

স্বল্প সময়ে সংসদীয় কমিটি অনেক কিছু করবে আশা করা ঠিক হবে না। তবে জ্বালানি বিদ্যুৎ খাতকে স্ট্রাটেজিক খাত হিসাবে বিবেচনা করে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে এই খাতে অতি প্রয়োজনীয় দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 + seven =