টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জিতে ইতিহাস গড়লেন এমবাপে

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত গোল করার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো গোল্ডেন বুট জিতেছেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে। ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসেও নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

এবারের বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেন এমবাপে। অন্যদিকে ফাইনালের আগে লিওনেল মেসির গোলসংখ্যাও ছিল আট। তবে স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে গোল করতে না পারায় মেসি আট গোলেই টুর্নামেন্ট শেষ করেন। ফলে দ্বিতীয় আসর টানা গোল্ডেন বুট নিশ্চিত হয় এমবাপের।

এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও গোল্ডেন বুটের লড়াই হয়েছিল মেসি ও এমবাপের মধ্যে। ফাইনালের আগে দুজনেরই গোল ছিল পাঁচটি করে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মেসি জোড়া গোল করলেও হ্যাটট্রিক করে আট গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন এমবাপে।

শুধু গোল্ডেন বুট নয়, ২০২৬ বিশ্বকাপে আরেকটি অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। তিনটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর মাধ্যমে তিনি পেছনে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে, যার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ২১।

এই অর্জনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো ম্যাচসংখ্যা। মেসি যেখানে ২১ গোল করতে খেলেছেন ৩৪টি বিশ্বকাপ ম্যাচ, সেখানে এমবাপে মাত্র ২২ ম্যাচেই ২২ গোল করে গড়েছেন নতুন ইতিহাস।

বিশ্বকাপে এমবাপের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও নজরকাড়া। ২০১৮ সালে তিনি করেছিলেন ৪ গোল, ২০২২ সালে ৮ গোল করে প্রথমবারের মতো জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। আর ২০২৬ বিশ্বকাপে ১০ গোল করে নিজের কীর্তিকে আরও সমৃদ্ধ করলেন।

ফ্রান্সের জার্সিতেও একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন এমবাপে। ইতোমধ্যেই দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি পাওয়া এই তারকা এবার বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও নিজের করে নিয়েছেন।

মাত্র ২৭ বছর বয়সে এমন অসাধারণ সাফল্যের পর ফুটবলবিশ্বের নজর এখন ২০৩০ বিশ্বকাপের দিকে। বর্তমান ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ডকে তিনি আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবেন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 × 2 =