টুর্নামেন্ট ফেভারিট স্পেন স্বরূপে, সৌদি আরবের বিদায়

স্পেন ৪-সৌদি আরব ০

স্প্যানিশ প্লাবনে ভেসে গেছে সৌদি আরব। ৪-০ ব্যাবধানে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকে ঘরে ফেরা নিশ্চিত হয়ে গেছে ২০৩৪ বিশ্বকাপে স্বাগতিক হবার স্বপ্নে বিভোর  দেশটির। বিশ্লেষকদের মতে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম শীর্ষ ফেভারিট স্পেনকে  কেপ ভার্দের  বিরুদ্ধে ০-০ সমতায় শেষ হওয়া প্রথম ম্যাচে বিবর্ণ মনে হয়েছিল। ৯০ মিনিটের অসম লড়াই শেষেও দুর্বল কেপ ভার্দের রক্ষণ দুর্গ ভেদ করতে পারেনি কুশলী স্পেন দল।

দৃষ্টিনন্দন ছন্দময় ফুটবল খেলে এশিয়ার দেশ সৌদি আরবকে ৪-০ গোল প্লাবনে ভাসিয়ে স্পেন জানিয়ে দিলো বিশ্লেষকরা কেন তাদের ফেভারিট তালিকায় রেখেছে। আটলান্টার মার্সেডিজ বেঞ্চ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এইচ গ্রুপের আজকের খেলায় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ‘লা রোজাদের’ খেলায় ছিল শিল্পময় ফুটবলের সৃজনশীল মায়াজাল। শুরু থেকে অতিরক্ষণাত্মক খেলা সৌদি আরব দাঁড়াতেই পারেনি স্পেনের জাদুগরি সৃজনশীলতার কাছে। ভাবতে অবাক লাগে সৌদি আরব ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিল।

বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামেলের শুভ সূচনা

স্পেন প্রতিভা স্প্যানিশ ইয়ামেলকে ধরা হয় আগামীর তারকা ম্যাচের ১০ মিনিটে বিস্ময় বালক প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে দুর্দান্ত গোল করে বিশ্বকাপে ওর গোলের সূচনা করলো। বাঁ প্রান্ত ধরে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে  মিকেল ওইয়ারসাবাল সৌদি  রক্ষণ ভেঙে বক্সে বাড়িয়েছিল আমন্ত্রণমূলক নিচু ক্রস। আর সেখানে বাজপাখির মতো ছোঁ মেরে বল জালে জড়ালেন স্প্যানিশ ফুটবলের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল, নিঃসন্দেহে শুরু হলো ইয়ামেল রূপকথা পর্ব ১-০।

প্রথমার্ধেই ৩-০ এগিয়ে যায় স্পেন

২১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ওইয়ারসাবাল। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল দানি ওলমোর ফ্লিকে চলে যায় সৌদি বক্সে। সৌদি ডিফেন্ডারদের জটলার  মাঝে মাথা ছুঁইয়ে বলের দিক বদলে দেন এমেরিক লাপোর্ত। সেখান থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান ওইয়ারসাবাল ২-০। তিন মিনিট পরেই আবারো স্প্যানিশ গোল। এবার মার্ক কুকুরেয়ার বুক দিয়ে নামানো ক্রস দানি ওলমো বাড়িয়ে দেন হেডে। আর নিখুঁত শটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন ওইয়ারসাবাল ৩-০। ৩৬ মিনিটে তো তার বাঁ পায়ের বাঁকানো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে না এলে হ্যাটট্রিক হয়ে যেত ওইয়ারসাবালের।

মাঝমাঠে রদ্রির খেলা ছিল শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবি

কাল মাঝমাঠে স্পেন ফুটবলের প্রাণভোমরা রদ্রি ছিল দারুন ছন্দে। আধুনিক ফুটবলের অনন্য রূপকার রদ্রি কাল নিপুণ শিল্পীর মতোই খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, ক্রমাগত ডিফেন্স চেরা পাস দিয়ে সৌদি রক্ষণভাগকে সন্ত্রস্ত করে রেখেছিল। দ্বিতীয়ার্ধে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তার সেরা দুই ফরোয়ার্ড  ওইয়ারসাবাল ও ইয়ামালকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিযে ফেরান তোরেস ও ইয়েরেমি পিনোকে পরক করে।

যদিও এর ফলে খেলায় স্পেনের দাপট কমেনি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে একটির বেশি গোল হয়নি। ৪৯ মিনিটে দলের চতুর্থ গোলটি আসে সৌদির দুর্ভাগ্য হিসেবে। আলেক্স বায়েনার কর্নার থেকে কুকুরেয়া ভলি করেছিলেন। সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইস দারুণ এক সেভ করলেও বল দুর্ভাগ্যবশত ডিফেন্ডার হাসান আল-তাম্বাকতির গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। ৪-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া স্পেন দলকে এরপর গোল করার চেয়ে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ঝালিয়ে নিতে দেখা গেছে। ছন্দে ফেরা স্পেনকে আজ সত্যিকার অর্থেই ক্ষুধার্থ মনে হয়েছে।

সবাই জানে স্পেনের লা লিগা বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল লীগ। খেলে থাকে ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকার সেরা তারকারা।আর স্প্যানিশ ফুটবলে আছে ল্যাটিন মার্কিন শিল্প আর ইউরোপিয়ো সৃজনশীলতা।ছন্দে ফেরা স্পেনকে সামাল দেওয়া সহজ হবে না হয়ত কোনো দেশের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 − 1 =