তুরস্কের আন্তালিয়ায় কপ-৩১ সম্মেলন সামনে রেখে তুরস্কে শুরু হয়েছে “TÜRKİYE’S ROAD TO COP31: RESILIENT CITIES” আন্তর্জাতিক আয়োজন। আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-কে সামনে রেখে “TÜRKİYE’S ROAD TO COP31: RESILIENT CITIES” শীর্ষক দুই দিনব্যাপী (৮-৯ মে ) আয়োজন আজ সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু তুরস্কের হাতায় (Hatay) মিউজিয়াম হোটেলে আন্তর্জাতিক এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। (৮ – ৯ মে) অনুষ্ঠিতব্য দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক আয়োজনে বিভিন্ন দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রীরা অংশ নিয়েছেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী Mr. Murat Kurum বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দুর্যোগ সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরবর্তীতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সাথে তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী Mr. Murat Kurum দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকের শুরুতে তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী Mr. Murat Kurum কপ-৩১ সম্মেলন ও হাতায় ঘোষণাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের মতামত ও পরামর্শ কামনা করে বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃতুল্য দেশ হিসেবে পরিচিত।
তুরস্কের পরিবেশ মন্ত্রী আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের পরিবেশ মন্ত্রীকে আমন্ত্রন জানিয়ে বলেন, আগামি কপ-৩১ সম্মেলনে তুরস্ক বাংলাদেশের পরিবেশ উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু তুরস্কে বাংলাদেশকে আমন্ত্রনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, লক্ষাধিক বাংলাদেশি বর্তমানে তুরস্কে বসবাস করছেন এবং বাংলাদেশিরা তুরস্কের জনগণকে বন্ধুত্বপূর্ণ জাতি হিসেবে মনে করে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু আরও বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে মাত্র ০.৩৫ শতাংশ অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম। বন উজাড়, দ্রুত নগরায়ণ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে দেশের পরিবেশ ও জনজীবন ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী বৈশ্বিক আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনে একটি বিশেষ এজেন্ডা উপস্থাপন করবে, যাতে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও অর্থায়ন নিশ্চিত করা যায়।
পরিবেশমন্ত্রী আরও জানান, কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে ফোকাল পার্সন নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান, জলবায়ু ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো কার্যকরভাবে তুলে ধরবেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ন্যায্য অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরবর্তীতে প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু , গাম্বিয়ার মন্ত্রী ROHEY JOHN MANJANG , সিরিয়ার মন্ত্রী MOHAMMED ANJRANI, তুরস্কে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর HUMBERTO LÓPEZ এবং ইলব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার EYYÜP KARAHAN। এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো ও নগর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অর্থায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে তুলনামূলকভাবে কম অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু তহবিলের কার্যকর ব্যবস্থা ও দ্রুত অর্থ ছাড় অত্যন্ত জরুরি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের রিসোর্স আছে। এখন তহবিল প্রদানের পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং দক্ষতা উন্নয়নে কারিগরি সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১ম দিনের শেষ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে দুই দেশের মন্ত্রীর মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মালদ্বীপের জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী আলী শরীফ মালদ্বীপে আগামীতে ৫০ লাখ বৃক্ষরোপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন, বিশেষ করে চারা উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ক্ষেত্রে।
এ সময় বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা সরকারের একটি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি। এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও কার্যক্রম বিশেষ করে বাংলাদেশে নার্সারি কার্যক্রম, চারা উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং বৃক্ষ পরিচর্যা ব্যবস্থা সরেজমিনে দেখার জন্য তিনি মালদ্বীপের পরিবেশ মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
শেষ দিনে ০৯ মে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে কসোভোর পরিবেশ, স্থানিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামো মন্ত্রী ফিতোরে পকোলি (Fitore Pacolli) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে কসোভো COP এ অন্তর্ভুক্ত হতে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। একই সঙ্গে আগামী কপ-৩১ সম্মেলনে কপ-৩১ দুই দেশের মধ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, কসোভো জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশ নয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশই প্রথম কসোভোকে স্বীকৃতি দেয়।
দিনের শেষ কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীদের গোলটেবিল বৈঠক এবং বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে Hatay Declaration এর মধ্যদিয়ে দুইদিনের আয়োজন শেষ হয়। সমাপনী দিনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, দুর্যোগ-সহনশীল নগর গড়ে তোলা, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়