পাকিস্তানকে ধবল ধোলাই করে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ জয়

সালেক সুফী

শেষ দিনের সকালে বাংলাদেশ পরিকল্পনা করেই পাকিস্তানের অবশিষ্ট ৩ উইকেট তুলে নিলে ৩৫৮ রানে পাকিস্তান ইনিংস গুটিয়ে যায়। ৭৮ রানে টেস্ট জয়ী হয়ে বাংলাদেশ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ঐতিহাসিক ধবল ধোলাই অর্জন করে। শেষ  ইনিংসে পাকিস্তানের সামনে টার্গেট ছিল ৪৩৭। পাকিস্তান কিন্তু নিজেদের সাধ্যের সবকিছু নিবেদন করে ইতিহাস সৃষ্টির ত্রুটি করেনি। চতুর্থ ইনিংসে মোহাম্মদ রিজওয়ান (৯৪) শান মাসুদ (৭১), সালমান আগা (৭১), বাবর আজম (৪৭) বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলো। কিন্তু নাজমুল শান্তর নেতৃত্বে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ দুর্দান্ত বোলিং এবং ফিল্ডিং করে জয় ছিনিয়ে এনেছে। প্রথম ইনিংসে লিটন কুমার দাস আর দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিম খেলেছে ম্যাচ ডিফাইনিং শতরানের ইনিংস। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট তুলে নিয়েছে তাইজুল। দুরন্ত পেস বোলিং দিয়ে কাঁপুনি ধরিয়েছে নাহিদ রানা। পরিণত তাসকিন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছে। মিরাজ আর শরিফুল চাপে রেখেছে পাকিস্তানকে। উইকেটের পিছনে লিটন, আর দুর্দান্ত কিছু ক্যাচ নিয়ে মিরাজ, জয় দলের সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে। সিলেট টেস্ট এবং সিরিজ জয়ে গোটা দল রেখেছে সমন্বিত ভূমিকা।

২০২৪ পাকিস্তান সফরে পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে (২-০) ধবল ধোলাই করেছিল বাংলাদেশ। এবার দেশের মাটিতে ঢাকা এবং সিলেটে নিরংকুশ আধিপত্য বজায় রেখে দাপুটে বাংলাওয়াশ অর্জন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অনন্য অর্জন। দলের এই সিরিজ জয়ে অধিকাংশ খেলোয়াড় সম্মিলিত অবদান করেছে। সাফল্যে রয়েছে গত ২-৩ বছরে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, ব্যাবস্থাপনার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। দেশের উইকেটের দৃশ্যমান উন্নয়ন। পাকিস্তান দলটি সিরিজের কোন পর্যায়েই বাংলাদেশের তুখোড় অল রাউন্ড পারফরম্যান্সের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। অথচ এই পাকিস্তানকে মাশরাফি, শাকিব, তামিম, মাহমুদুল্লাহ থাকা অবস্থায় বাগে পেয়েও হারাতে পারেনি।

আজ ৩১৬/৭ শুরু করেছিল পাকিস্তান। উইকেটে ছিল ৭৫ রানে অপরাজিত মোহাম্মদ রিজওয়ান সঙ্গী সাজিদ খান। পাকিস্তানের জন্য প্রয়োজন ছিল ১২১ রান। জুটি সাহসের সঙ্গে লড়াই করে ৩৫৮ রানে অল আউট। কিছুটা হলেও শঙ্কা জেগেছিলো বাংলাদেশের  মনে। সৌভাগ্য অধিনায়ক নাজমুল শান্ত। তাইজুল শরিফুলকে আক্রমণে আনার সঙ্গে সঙ্গে উড়ে গেলো পাকিস্তানের প্রতিরোধ। ৩৫৮ রানেই ৮, ৯ ও ১০ম উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান ৭৮ রানে পরাজিত হলো।

আমি বাংলাদেশের মাইলস্টোন জয়ে আনন্দিত  কিন্তু উল্লসিত নই। পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ আদৌও বিশ্বমানের ছিলনা। শেষ ইনিংসটি ছাড়া ব্যাটিং ছিল ছন্নছাড়া। বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওদের মাটিতে টেস্ট সিরিজ দুটির জন্য সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের পেসি উইকেটে মুভিং বলে খেলার দুর্বলতা আছে। হয়ত রিশাদকে লাল বলে খেলাতে হবে। নাহিদকে পরিচর্যা করতে হবে। একজন পেস বল অল রাউন্ডার যোগ করতে পারলে ভালো। অস্ট্রেলিয়ার দুরন্ত গতির মিচেল স্টার্ক, পাট কামিন্স, জস হেজেলউডকে ওদের কন্ডিশনে খেলায় অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। তবে দলের মাঝে জয়ের তৃস্না সৃষ্টি হয়েছে। লাল বলের সাফল্য হয়তো অস্ট্রেলিয়া ভারতের বিরুদ্ধে সাদা বল ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাশ দিবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:

বাংলাদেশ  প্রথম ইনিংস: ২৭৮ অল আউট (লিটন কুমার দাস ১২৬, নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯, তানজিদ হাসান তামিম ২৬, মুশফিকুর রহিম ২৩, মোমিনুল হক ২২, তাইজুল ইসলাম ১৬, খুররাম সাজ্জাদ ৪/৮১, মোহাম্মদ আব্বাস ৩/৪৫, হাসান আলী ২/ ৪৯)

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস ৩৯০ অল আউট  (মুশফিকুর রহিম  ১৩৭,  লিটন কুমার দাস ৬৯,  মাহমুদুল হাসান জয় ৫২, মোমিনুল হক ৩০, তাইজুল ইসলাম ২২, খুররম সাজ্জাদ ৪/৮৬, সাজিদ খান ৩/ ১২৬)

পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ২৩২ অল আউট (বাবর আজম ৬৮, সাজিদ খান ৩৮, শান মাসুদ ২১, সালমান আগা ২১, নাহিদ রানা ৩/৬০, তাইজুল ইসলাম ৩/৬৭.মেহেদী মিরাজ ২/২১,তাসকিন আহমেদ ২/৩৭)

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস  ৩৫৮ অল আউট  (মোহাম্মদ রিজওয়ান ৯৪, শান মাসুদ ৭১, সালমান আলী আগা ৭১, বাবার আজম ৪৭, তাইজুল ইসলাম ৬/১২০, নাহিদ হাসান রানা ২/৭১)

বাংলাদেশ ৭৮ রানে টেস্ট জয়ী বাংলাদেশ ২-০ সিরিজ জয়ী।

ম্যাচের সেরা: লিটন কুমার দাস

সিরিজ সেরা: মুশফিকুর রহিম

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

10 − 6 =