বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে দেশে ফিরল মিসর, বীরের সংবর্ধনায় সিক্ত সালাহরা

বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে না পারলেও দেশের মানুষের হৃদয় জয় করেছে মিসর। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় লড়াইয়ে বিদায় নেওয়ার পর দেশে ফিরে বীরের মর্যাদায় সংবর্ধনা পেয়েছেন মোহাম্মদ সালাহ ও তার সতীর্থরা। ইতিহাস গড়া এই বিশ্বকাপ অভিযানের স্বীকৃতি জানাতে হাজারো সমর্থক বিমানবন্দরে ভিড় করেন।

শুক্রবার বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফেরে মিসর দল। আল-আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিণত হয় উৎসবের জনসমুদ্রে। জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও দেশাত্মবোধক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। “তোমরাই আমাদের গর্ব” এবং “ধন্যবাদ” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে সমর্থকেরা ফুটবলারদের অভিনন্দন জানান।

বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে নিউ আল-আলামেইন শহর প্রদক্ষিণ করেন খেলোয়াড়রা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ করতালি ও শুভেচ্ছায় তাদের অভ্যর্থনা জানান। ফুটবলাররাও হাত নেড়ে সমর্থকদের ভালোবাসার জবাব দেন।

এবারের বিশ্বকাপ মিসরের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। চারবারের চেষ্টায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জয় পায় উত্তর আফ্রিকার দেশটি। শুধু তাই নয়, প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বেও জায়গা করে নেয় তারা। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর শেষ ৩২-এ টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ে মিসর।

তবে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় থেমে যায় তাদের স্বপ্নযাত্রা। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয় হোসাম হাসানের দল। তবু এই পরাজয় ম্লান করতে পারেনি তাদের অসাধারণ অর্জন।

বিশ্বকাপে মিসরের সাফল্যের অন্যতম রূপকার প্রধান কোচ হোসাম হাসানও সমর্থকদের প্রশংসায় ভাসছেন। সংবর্ধনায় তার ছবিসহ অসংখ্য ব্যানার দেখা যায়। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনের প্রতি প্রকাশ্য সংহতি জানিয়ে আলোচনায় আসা এই কিংবদন্তির প্রতি সমর্থকদের শ্রদ্ধাও ছিল চোখে পড়ার মতো।

মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। দল দেশে ফেরার আগেই হোসাম হাসান এবং তার যমজ ভাই ও সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসানের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তারা ২০৩০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকতে পারেন।

২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হোসাম হাসানের অধীনে মিসরের ফুটবলে এসেছে নতুন প্রাণ। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে ওঠা, আট বছর পর বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন এবং এবারের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ অভিযান—সব মিলিয়ে দেশটির ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে তার দল।

শিরোপা না জিতলেও এবারের বিশ্বকাপ মিসরের জন্য হয়ে থাকবে গর্বের এক অধ্যায়। মাঠের লড়াই, ইতিহাস গড়া সাফল্য এবং সমর্থকদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা প্রমাণ করেছে—কখনও কখনও ট্রফির চেয়েও বড় অর্জন একটি জাতির হৃদয় জয় করা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

seven − 3 =