ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত থাকবে, অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশাবাদ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা, ১ আগস্ট ২০২৬: সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপই কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি করবে। খবর বাসস

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) উদ্যোগে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বিভিন্ন খাতে কিছু সমস্যা থাকলেও সরকার ও বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করলে সেগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, সরকার যেমন অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন, তেমনি ব্যবসায়ীরাও বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই সরকার একাধিকবার ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। আগের বৈঠকে উত্থাপিত অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং নতুন যেসব বিষয় উঠে এসেছে, সেগুলোও দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে সরকার। তাঁর ভাষায়, “যত বেশি আলোচনা হবে, তত ভালোভাবে সমস্যাগুলো বোঝা যাবে এবং কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব হবে।”

বৈঠকে জানানো হয়, আগের বৈঠকে ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত ২৮টি সমস্যার মধ্যে ২১টির বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট সাতটি বিষয় এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সভায় ব্যবসায়ীরা ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা, সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা এবং আরও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তারা ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার একটি রূপরেখাও সরকারের সামনে তুলে ধরেন। এ লক্ষ্য অর্জনে কূটনৈতিকসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেয় সরকার।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশের শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে অ্যাপেক্স গ্রুপের সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের আহসান খান চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের মোস্তফা কামাল, ডিবিএল গ্রুপের এম এ জাব্বারসহ ইনসেপ্টা, র‌্যাংকস, প্যাসিফিক জিন্স, এসিআই, বে ফুটওয়্যার, রানার, ওয়াল্টন ও যমুনা গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 × two =