ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস অনুসন্ধানে খনন কাজ শুরু

দেশে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভূগর্ভের ১৮ হাজার ফুট গভীর থেকে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য খনন কাজ শুরু করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। খবর বাসস

বিজিএফসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, ‘সাধারণত ভূগর্ভের গভীরে বিপুল গ্যাস সম্পদের সম্ভাবনা থাকে। আমরা গ্যাসের উৎসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারব।  একবার খনন কাজ ৫ হাজার ৬০০ মিটার বা ১৮ হাজার ৩৭২ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন সম্পন্ন হলে এটি হবে গভীর কূপ খনন।’

গতকাল সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গভীর কূপস্থলে আব্দুল জলিল বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ২ হাজার ৬৮২ হর্সপাওয়ার সম্পন্ন একটি আধুনিক রিগ (খননযন্ত্র) ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দেশে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৯০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত কূপ খননের ইতিহাস রয়েছে। এবার সেই সীমা অতিক্রমের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এফইআরবি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান রিপন, নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আজাদসহ অন্যান্য সদস্যরা তিতাস-৩১ গভীর কূপ সাইট পরিদর্শন করেন।

বিজিএফসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, এই কূপ খননের পর একই চীনা রিগ ব্যবহার করে বাখরাবাদে আরেকটি কূপ খনন করা হবে।

তিনি জানান, ‘এই দুটি গভীর কূপ অনুসন্ধানে ব্যয় হবে ৫৯৪ কোটি টাকা। সবকিছু ঠিক থাকলে এই দুটি কূপ থেকে ২ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। তবে খনন কাজ শেষ হলেই বিষয়টি সঠিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি গ্যাসের চাহিদা রয়েছে, যেখানে সরবরাহ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ এমএমসিএফডি।

চাহিদা মেটাতে গড়ে ১ হাজার এমএমসিএফডি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল জলিল বলেন, তিতাস-৩১ কূপের খনন কাজ সম্পন্ন করতে ২১০ দিন সময় লাগবে। এর খনন কাজ শুরু হয়েছে গত ১৯ এপ্রিল।

তিনি আরও জানান, ‘এ পর্যন্ত প্রায় ২২ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাখরাবাদ কূপ খননে আনুমানিক ১৮০ দিন লাগতে পারে।’

কর্মকর্তারা জানান, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে চারটি স্তরে গ্যাস ভাণ্ডার রয়েছে।

প্রথম স্তরটি ৩ হাজার ৭৩৬ থেকে ৩ হাজার ৭৬৫ মিটার গভীরতায় এবং শেষ স্তরটি ৫ হাজার ৩১৫ থেকে ৫ হাজার ৩৪৪ মিটার গভীরতায় অবস্থিত। ৩ হাজার ৭৫০ মিটার গভীরতা অতিক্রম করলে উচ্চচাপ অঞ্চল স্পর্শ করা হবে বলেও জানান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জলিল।

তিনি বলেন, এই চাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে পুরো খনন প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যাবে। তাই অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে ১৫ হাজার পিএসআই ক্ষমতাসম্পন্ন ব্লো-আউট প্রিভেন্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এবার ১০ হাজার পিএসআইয়ের পূর্ববর্তী সীমা ভেঙে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

দেশে এত উচ্চক্ষমতার রিগ না থাকায় চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি সিসিডিসি খনন কাজ পরিচালনা করছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে নিজ দেশে ১০ হাজার মিটার গভীর কূপ খননের অভিজ্ঞতা রয়েছে চীনা কোম্পানিটির। তিতাসের ভূগর্ভে হয়ত নতুন জ্বালানি ভাণ্ডার লুকিয়ে রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fifteen − 4 =