সরকারি স্থাপনায় সোলার প্যানেল স্থাপনে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: বিদ্যুৎ মন্ত্রী

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

আজ মঙ্গলবার (৫ মে) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে অংশ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনগুলো অত্যন্ত দীর্ঘ হওয়ার কারণে কোথাও কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা ‘ফল্ট’ দেখা দিলে তা শনাক্ত করতে কিছুটা সময় ব্যয় হয়। এই কারিগরি কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও লাইন মেরামতের পর দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়, যাকে সাধারণ অর্থে লোডশেডিং বলা চলে না।

বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন, সম্প্রতি দেশের কিছু এলাকায় যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা গিয়েছিল, তার পেছনে তেলের কোনো সংকট দায়ী ছিল না। বরং যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেই এমন সাময়িক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেলের অভাবে লোডশেডিং হওয়ার তথ্যটি সঠিক নয়।

এছাড়া গত কয়েক দিনে তেল নিয়ে যে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হয়েছিল, তা শক্ত হাতে মোকাবিলা করার জন্য জেলা প্রশাসকদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।

ডিসি সম্মেলনে বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা স্থানীয় পর্যায়ে সঠিক তথ্য প্রচার করতে পারেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই প্রসার ঘটাতে জেলা প্রশাসকেরা পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।

পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই উদ্যোগটি সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অধিবেশন শেষে ব্রিফিংকালে মন্ত্রী দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই নিবিড় সমন্বয় বিদ্যুৎ বিভ্রাটজনিত জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

sixteen − 13 =