স্মার্ট ও গ্রিন ঢাকা’ গড়তে ডিএসসিসির ১,৯০৪ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা

ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০২৬: রাজধানীর দক্ষিণ অংশকে আধুনিক, যানজটমুক্ত, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ৯০৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

পরিকল্পনায় সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক সিগন্যাল, কাঁচপুরে বাস টার্মিনাল উন্নয়ন, ধানমন্ডি লেকের পরিবেশগত উন্নয়ন এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য, পরিবেশের ভারসাম্য, আধুনিক যোগাযোগ ও নগরের নান্দনিকতা নিশ্চিত করাই এ পরিকল্পনার লক্ষ্য।

চলতি অর্থবছরে ডিএসসিসির উন্নয়ন বরাদ্দ গত অর্থবছরের মূল বরাদ্দ ২ হাজার ১৯৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার তুলনায় কম হলেও নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৮০৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা করা হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক ও মহাসড়ক খাতে সর্বোচ্চ ৫২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

যানজট নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির ২২টি ইন্টারসেকশনে বুয়েটের কারিগরি সহায়তায় এআইভিত্তিক ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনে ৪০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। প্রশাসক বলেন, যানবাহনের চাপ বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিগন্যাল পরিচালনা করা গেলে যানজট কমার পাশাপাশি নগরবাসীর সময়ও সাশ্রয় হবে।

এদিকে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থানান্তরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্ল্যাটফর্ম, শেড, টিকিট কাউন্টার ও টয়লেট নির্মাণে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। টার্মিনালটি স্থানান্তর করা গেলে ঢাকার ভেতরে দূরপাল্লার বাসের প্রবেশ কমে যানজট নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে বলে মনে করছে ডিএসসিসি।

পরিবেশ ও নাগরিক বিনোদনের জন্য ধানমন্ডি লেকের অবকাঠামো, পরিবেশ ও সৌন্দর্যবর্ধনে ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন খাতে রাখা হয়েছে ৭ কোটি টাকা।

ডিএসসিসি ইতোমধ্যে ‘জিরো সয়েল’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সড়কের মিডিয়ানে গাছ ও ঘাস লাগিয়েছে। ওসমানী উদ্যানে স্থাপিত নিজস্ব নার্সারিতে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি চারা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী বছর সেখানে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। নগর ভবনের দক্ষিণ পাশেও আরও একটি নার্সারি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসক বলেন, সড়কের মিডিয়ান, পার্ক, উন্মুক্ত স্থান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আশপাশে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দক্ষিণ ঢাকাকে আরও সবুজ করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি ঢাকা চাই, যেখানে উন্নয়ন হবে দৃশ্যমান, যোগাযোগ হবে আধুনিক, পরিবেশ হবে সবুজ এবং নাগরিকরা স্বস্তির সঙ্গে বসবাস করতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, নগর উন্নয়নের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে নাগরিকদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ জরুরি। সড়ক, ফুটপাত, পার্ক, লেক ও সবুজ অবকাঠামো রক্ষায় নগরবাসীকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two × 1 =