আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণ ঘিরে আবারও আলোচনায় ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’

১০০টি ম্যাচের রোমাঞ্চ শেষে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন শেষ চারের লড়াইয়ে। ৪৮ দলের এই আসরে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল—আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৬ জুলাই আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে।

বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০২ সালে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ডেভিড বেকহামের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। তবে দুই দলের লড়াইয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচটি নিঃসন্দেহে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে দিয়েগো ম্যারাডোনার অনন্য নৈপুণ্যে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।

সেই ম্যাচের মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দুটি গোল উপহার দেন ম্যারাডোনা। ৫১তম মিনিটে তিনি হাত দিয়ে বল জালে পাঠালেও তিউনিসিয়ার রেফারি আলি বিন নাসের সেটিকে গোল হিসেবে স্বীকৃতি দেন। ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনা বিখ্যাত সেই মন্তব্য করেন—“গোলটি কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা দিয়ে, আর কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে।” এরপর থেকেই গোলটি ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে ফুটবল ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়।

এর মাত্র চার মিনিট পরই তিনি সৃষ্টি করেন ফুটবল ইতিহাসের আরেক অমর মুহূর্ত। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে অবিশ্বাস্য ড্রিবলিংয়ে গোল করেন ম্যারাডোনা। গোলটি পরে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

সেই জয়ের ধারাবাহিকতায় আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল পেরিয়ে বিশ্বকাপ জেতে, আর ম্যারাডোনা প্রতিষ্ঠা করেন নিজেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি হিসেবে।

প্রায় চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফলে ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ এবং ম্যারাডোনার দুই কিংবদন্তি গোল আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেক ফুটবলপ্রেমীর জন্মও তখন হয়নি। তাদের জন্য সেই ম্যাচের ভিডিও আজও ফুটবল ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল।

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থান অর্জনের পর নকআউটে কেপ ভার্দে, মিসর ও সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড পরপর কঙ্গো ডিআর, মেক্সিকো ও নরওয়েকে বিদায় করে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছে।

ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বর্তমান ফর্ম—সবকিছু মিলিয়ে সেমিফাইনালটি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি। বিশ্বকাপে দুই দলের পাঁচটি সাক্ষাতে পরিসংখ্যানের দিক থেকে ইংল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকলেও নকআউট পর্বের সবচেয়ে স্মরণীয় দুটি লড়াই—১৯৮৬ ও ১৯৯৮—দুটিতেই শেষ পর্যন্ত জয় উদযাপন করেছে আর্জেন্টিনা।

এবারের লড়াইয়ে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে, নাকি নতুন অধ্যায় লিখবে ইংল্যান্ড—তার উত্তর মিলবে ১৬ জুলাই আটলান্টার মহারণে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one × 1 =