ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। খবর বাসস
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননে ইসরাইলের হামলা এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর নতুন করে রকেট হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে হিজবুল্লাহ এ আলোচনায় অংশ নেয়নি। আগের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রোববার শেষ হওয়ার কথা ছিল। এএফপি।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি খুব ভালো সম্ভাবনা আছে। আমার ধারণা, এটি সহজ হবে।’
তবে এর আগে তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে তাড়াহুড়ো না থাকার কথা বলেন। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে।’ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দুই সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই প্রথম বিস্ফোরণের ঘটনা। তবে এর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এক ইসরাইলি নিরাপত্তা সূত্র এএফপি’কে জানিয়েছে, বর্তমানে তারা ইরানে কোনো হামলা চালাচ্ছে না।
এদিকে পাকিস্তানে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক অগ্রগতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে অবস্থান নিয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান কার্যত এই প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘আমার হাতে অফুরন্ত সময় আছে, কিন্তু ইরানের হাতে নেই, তাদের সময় ফুরিয়ে আসছে!’
বৃহস্পতিবার ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এর আগেই তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানো অবস্থায় কোনো ইরানি নৌযান পাওয়া গেলে যেন তা ধ্বংস করা হয়।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। ফলে সেখানে এখন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি রণতরী মোতায়েন রয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জানায়, বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় রণতরীটি লোহিত সাগরে ছিল এবং তৃতীয়টিও ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, পশ্চিম তেহরানে ‘বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবর্ষণের শব্দ’ শোনা গেছে। অন্যদিকে মেহর সংবাদ সংস্থা জানায়, ‘শত্রু লক্ষ্যবস্তু’ মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
এর আগে ভারত মহাসাগরে ইরান থেকে তেল বহনকারী একটি জাহাজে অভিযান চালিয়ে সেটি আটক করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে আদায়কৃত টোল থেকে তাদের প্রথম আয় জমা হয়েছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবুজ সংকেত’-এর অপেক্ষায় আছি। প্রথমত খামেনি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে এবং ইরানকে অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিতে।’
ইরান জানিয়েছে, যতদিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রাখবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলবে না। কেবল নিজেদের অনুমোদিত সীমিতসংখ্যক জাহাজকে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) জানায়, ভারত মহাসাগরে ‘মেরিটাইম ইন্টারডিকশন’ অভিযানে ইরান থেকে তেল বহনকারী ‘এম/টি ম্যাজেস্টিক এক্স’ নামের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত পতাকাবিহীন একটি জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে।