বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড ওডিআই সিরিজ : চট্টগ্রামে দাপুটে জয়ে কাঙ্খিত সিরিজ জয়ী করলো বাংলাদেশ

সালেক সুফী

আজ চট্টগ্রামে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ ওডিআই সিরিজের সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচ। ম্যাচটি ৫৫ রানের সহজ  জয় দিয়ে  বাংলাদেশ কাঙ্খিত সিরিজ (২-১) জয় করে নিলো। টস হেরে প্রথম ব্যাটিং করে নাজমুল হোসেন শান্ত (১০৫) আর লিটন কুমার দাসের (৭৬) মাইল ফলক স্থাপনকারী ১৬০ রানের চতুর্থ উইকেট জুটির উপর ভিত্তি করে করেছিল ২৬৫/৮।  জবাবে মুস্তাফিজের আরো একটি বিধ্বংসী বোলিং স্পেল ( ৫/৪৩) আর নতুন সেন্সেশন নাহিদ রানা (২/৩৭) ব্ল্যাক ক্যাপসদের ২১০ রানে গুটিয়ে দিলে ৫৫ রানের বিশাল ব্যাবধানে জয় পায় বাংলাদেশ। খর্বশক্তির নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পূর্ণশক্তির বাংলাদেশ দেশের মাটিতে সিরিজ জয়ে ফেভারিট ছিল। কিন্তু প্রথম ম্যাচে অপ্রত্যাশিত ভাবেই হেরে গিয়ে সবাইকে হতাশ করেছিল বাংলাদেশ। হয়তো সেই বিপর্যয় নাড়িয়ে দিয়েছিলো বাংলাদেশকে। আর তাই দ্বিতীয় আর শেষ ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে তৃপ্তি থাকলেও উচ্ছসিত হবার কারণ নেই। একটি পূর্ণাঙ্গ শক্তিশালী ওডিআই দল হিসাবে পরিণত হবার জন্য ব্যাটিং বোলিং সব কিছুতেই যথেষ্ট উন্নতির সুযোগ আছে। আশা করি সিরিজ থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ শক্তিশালী প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ভারত সিরিজের জন্য নিজেদের শানিত করবে।

কাল শুরুতে কিন্তু ব্ল্যাক কাপ পেসার উইল অরুরক দ্রুত সাইফ হাসান (০), তানজীদ (১) আর সৌম্যকে (১৮) ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে কোনঠাসা করে ফেলেছিলো। ৩২/৩ অবস্থানে বাংলাদেশের পিঠ ঠেকেছিল দেয়ালে। সেখান থেকে নিজেদের পেশাদারিত্ব পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে নাজমুল শান্ত (১১০ বলে ১০৫) আর লিটন কুমার দাস (৯১ বলে ৭৬) চতুর্থ উইকেটে ১৬০ রান যোগ করে দলকে বিপদ মুক্ত করে। তৃপ্ত হতাম যদি দুই জনের একজন শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করতো।  তাহলে কিন্তু দলের স্কোর ২৬৮ না থেমে ২৯০-৩০০ হতে পারতো। যাহোক শান্তর চতুর্থ ওডিআই শত রানের জন্য সাধুবাদ দিবো। বেশ কিছু দিন রান খরার পর শান্তর ব্যাট হাসছে। লিটনের ইনিংসটিও ঝকমকে ছিল। শতরান পেলে ভালো লাগতো।  মিডেল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয় (৩৩*) আর মেহেদী মিরাজ (২২) আরো একটু প্রো-এক্টিভ হলে দলের সংগ্রহ ২৯০-৩০০ হতে পারতো। তীব্র গরমে নিউজিল্যান্ড দল ৫০ ওভার মাঠে থেকে অবশ্যই পরিশ্রান্ত ছিল। উইল ওরুরক (৩/৩২), জেইডেন লেনক্স (২/৫০), বেন লিস্টার (২/৬২) ভালো বোলিং করে বাংলাদেশের স্কোর ধরা ছোয়ার আওতায় রেখেছিলো।

প্রথম দুই ম্যাচে বিশ্রামে ছিল বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। কাল ফিরেই ক্ষুধার্ত বাঘের মতোই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল কিউই পাখির ঝাঁকের উপর। মূলত মুস্তাফিজের সংহারী বোলিং (৫/৪৩), নাহিদ রানার (২/৩৭) ম্যাচ এবং সিরিজ থেকে অতিথি দলকে ছিটকে দেয়। তবে এই সিরিজে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলা নিক কেলী (৫৯) আর ডিন ফক্সক্রফ্ট (৭৫) বাহবা দেব। সিরিজে হেনরী নিকলস, উইল ইয়ং এবং বিশেষ করে টম লাথাম বার্থ হলেও এই দুই নবাগত টিম ম্যানেজমেন্টকে নিঃসন্দেহে আশার আলো দেখিয়েছে। উইকেট পরিস্থিতি বিবেচনায় কাল অতিথি দলের পক্ষে ২৬৬ রান করে ম্যাচ জয় সাধ্যের অতিরিক্ত ছিল। ২১০ রানে ইনিংস গুটিয়ে যাওয়ায় ৫৫ রানে হেরে ম্যাচ আর সিরিজ ১-২ হেরে যায় অতিথি দল। বাংলাদেশ সরাসরি ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপ সরাসরি খেলার মিশনে একধাপ এগিয়ে যায়। ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলার জন্য নাজমুল শান্ত ম্যান অফ টি ম্যাচ আর সিরিজ জুড়ে গতি ছন্দের ঝড় তোলার স্বীকৃতি হিসাবে নাহিদ রানাকে সিরিজের সেরা ঘোষণা করা হয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

বাংলাদেশ ২৬৫ /৮ (নাজমুল হোসেন শান্ত ১০৫, লিটন কুমার দাস ৭৬, তাওহীদ হৃদয় ৩৩*, মেহেদী হাসান মিরাজ ২২, উইল অরুক ৩/৩২, জেইডেন লেনক্স ২/৫০, বেন লিস্টার ২/৬২)

নিউজিল্যান্ড ২১০ অল আউট (ডিন ফক্সক্রফ্ট ৭৫, নিক কেলী ৫৯, মোহাম্মদ আব্বাস ২৫, মুস্তাফিজুর রহমান ৫/৪৩, নাহিদ রানা ২/৩৭, মেহেদী হাসান মিরাজ ২/ ৩৬)

ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: নাজমুল হোসেন শান্ত, সিরিজ সেরা খেলোয়াড়: নাহিদ হাসান রানা।

অপেক্ষা এখন টি ২০ সিরিজ। এরপর টেস্ট সিরিজ খেলতে আসবে পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়া আর ভারত এবারেই আসবে সাদা বলের সিরিজ খেলতে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য তিন ফরম্যাটেই অগ্নি পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আমি মনে করি প্রান্তিক খেলোয়াড়দের নিয়ে পরীক্ষায় খুব একটা খারাপ করে নি নিউজি ল্যান্ড।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + fourteen =