কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশের সঙ্গে বহুমুখী জ্বালানি সহযোগিতায় আগ্রহী বাংলাদেশ

কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। খবর বাসস

এ সহযোগিতায় প্রচলিত জ্বালানি, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি এবং ছোট আকারের মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর)-এর মতো উদীয়মান খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. জসিম উদ্দিন তার সরকারি সফরের অংশ হিসেবে প্রদেশটিতে অনুষ্ঠিত একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আজ বুধবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাসকাচোয়ানের প্রিমিয়ার স্কট মো-এর সঙ্গে বৈঠকে হাইকমিশনার জ্বালানি, কৃষি, কৃষি ও খাদ্যপণ্যের মূল্য শৃঙ্খল এবং গবেষণা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সম্পৃক্ততা জোরদারে ‘বাংলাদেশ- সাসকাচোয়ান সহযোগিতা কাঠামো’ গঠনের প্রস্তাব দেন।

প্রিমিয়ার প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়ে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ধরনের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে প্রাদেশিক বাণিজ্য ও রপ্তানি উন্নয়নমন্ত্রী ওয়ারেন কেইডিং উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় জ্বালানি সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ প্রচলিত জ্বালানি, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি এবং এসএমআর-এর মতো উদীয়মান খাতে সহযোগিতার মাধ্যমে জ্বালানি মিশ্রণ বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

হাইকমিশনার সাসকাচোয়ানের জ্বালানি সম্পদমন্ত্রী ক্রিস বড্রি এবং কৃষিমন্ত্রী ডেভিড ম্যারিটের সঙ্গে বৈঠকেও এ প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, গবেষণা অংশীদারিত্ব এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সম্ভাবনার ওপর জোর দেন।

আলোচনায় বাংলাদেশ ও সাসকাচোয়ানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সম্পর্কও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে কৃষি-খাদ্য পণ্য ও পটাশ সার, যা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উভয় পক্ষ কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি প্রযুক্তি এবং ক্যানোলা-ভিত্তিক ভোজ্য তেল উৎপাদনের মতো ডাউনস্ট্রিম শিল্পসহ মূল্য সংযোজন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

সফরকালে হাইকমিশনারকে রেজিনায় গভর্নমেন্ট হাউসে লেফটেন্যান্ট গভর্নর বার্নাডেট ম্যাকইনটাইর অভ্যর্থনা জানান এবং তাকে সাসকাচোয়ানের আইনসভা অধিবেশনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি ইউনিভার্সিটি অব রেজিনার প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-চ্যান্সেলর ড. জেফ কেশন, শিক্ষকবৃন্দ এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এ সময় একাডেমিক সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া হাইকমিশনার সাসকাচোয়ান ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্ট পার্টনারশিপ (স্টেপ), সাস্কপাওয়ার এবং পেট্রোলিয়াম টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টার (পিটিআরসি)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং খাতভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one × one =