নাহিদ চমকে সিরিজে ফিরলো বাংলাদেশ

বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড ওডিআই সিরিজ

সিরিজে প্রথম ম্যাচে খর্বশক্তির নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশ বিস্ময়কর ভাবে হেরে হতাশ করেছিল। কাল বাংলাদেশের পেস সেন্সেশন নাহিদ রানার চমকে সেই নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা এনেছে বাংলাদেশ।

প্রথম ম্যাচের কালও টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল অতিথি দল। নাহিদ রানা প্রথম ম্যাচে পরিবর্তিত উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সঠিক লাইন লেন্থে বল করতে পারেনি। কাল কিন্তু উপযুক্ত উইকেট পেয়ে ছন্দ খুঁজে পায়।

প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেও ক্রমাগত ১৪০ কিলোমিটার+ গতিতে বল করা নাহিদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি নিক কেলি (৮৩ ) ছাড়া আর কেউ। ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে শেষ হয় ব্ল্যাক কাপ ইনিংস। মেহেদী মিরাজ রিশাদ হোসেনকে সঠিক সময়ে আক্রমণে এনে ১০ ওভার বোলিং করালে হয়তো নিউজিল্যান্ড ইনিংস আরো সংক্ষিপ্ত হতো।

বাংলাদেশ তানজিদ তামিম ( ৭৬), নাজমুল শান্ত (৫০) দুটি ভালো ইনিংসে ভর করে অনায়েসে ৩৫.৩ ওভারে ১৯৯/৪ করে ৬ উইকেটে ম্যাচ জয় করে সিরিজে সমতা অর্জন করে। চট্টগ্রামে তৃতীয় ম্যাচে নির্ধারিত হবে সিরিজ ভাগ্য।

উইকেটে কাল পেস-বাউন্স ছিল। বাংলাদেশের শক্তিশালী পেস আক্রমণ থাকা সত্ত্বেও কেন প্রথম ম্যাচের উইকেটে কিছুটা ধীর গতির অসম বাউন্সের ছিল তার জবাবদিহিতায় কি বলবেন বিসিবি পরিকল্পনাকারীরা জানা নেই। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মীরপুরে যে ধরনের উইকেটে খেলে বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছিল কি প্রয়োজন ছিল সেটি পরিবর্তনের? বিশেষত যখন বাংলাদেশের হাতে রয়েছে বিশ্বমানের পেস আক্রমণ।

প্রথম ম্যাচের মতো কাল মুস্তাফিজকে বিশ্রামে রাখা হয়। প্রথম ম্যাচে ভালো বোলিং করা শরিফুলকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ ছিল না। শরিফুল কালও ভালো বোলিং করেছে। আর শরিফুল-নাহিদের জুটি এখন মিলেছে ভালোই।

কাল কিন্তু ছিল নাহিদের দিন। বলে ছিল গতি, ছন্দ। এখন নিখাদ ফাস্ট বোলারকে পূর্ণ ছন্দে বোলিং করতে দেখা সবসময় অনাবিল আকর্ষণের। কাল কিন্তু নাহিদ পুরো স্পেলে মাত্র একটি বল ১৪০ কিলোমিটার গতির নিচে করেছে। ১০ ওডিআই ম্যাচে দ্বিতীয় বারের মত ৫ উইকেট নিয়েছে। গতি দিয়েই হকচকিয়ে দিয়েছে ফাস্ট বোলিং খেলায় অভ্যস্ত ব্ল্যাক ক্যাপসদের।

একমাত্র নবীন নিক কেলি (১০২ বলে ৮৩) ছাড়া কেউ ওর গতির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। নাহিদ ওর ৫ উইকেটের ৩টি নিয়েছে ওভারের প্রথম বলে। কাল সুযোগ ছিল নিউজিল্যান্ড দলকে আরো কম রানে গুটিয়ে দেয়ার।

মেহেদী মিরাজ হাতে থাকা উইকেট টেকার স্পিনার রিশাদ হোসেনকে পূর্ণ স্পেলে বোলিং করালে হয়ত নিউজিল্যান্ডকে ১৫০ রানের নিচে বেঁধে রাখা যেত। বাংলাদেশকে সিরিজ জিততে হলে বিবেচনা করতে হবে চট্টগ্রামে অধিনায়ক মেহেদী মিরাজকে বিশ্রাম দিয়ে তানভীর ইসলামকে সুযোগ দিতে।

নিউজিল্যান্ড ইনিংসে নিক কেলির প্রশংসা করতেই হবে। বৈরী পরিবেশে নবীন এই ক্রিকেটার অনেকটা একা লড়াই করে দলকে কিছুটা ভদ্র গোছের স্কোর করতে নিজেকে প্রয়োগ করেছে। কেলি ছাড়া আর কেউ ২০ রান করতে পারেনি। কাল নিকোলাস, ইয়ং বা লাথাম কেউ কিছু করতে পারেনি। নাহিদ (৫/৩২), ছাড়াও শরিফুল (২/৩২) ছিল সফল। রিশাদ মাত্র ৫ ওভার বল করার সুযোগ পেয়েছে।

মামুলী টার্গেট তাড়া করায় কাল কিন্তু বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচের ভুলের পুনরাবৃত্তি করেনি। শুরুতে সাইফ হাসান আর কাল সুযোগ পাওয়া সৌম্য ফিরে গেল। অনবদ্ধ ব্যাটিং করেছে তানজিদ তামিম (৭৬) আর অনেক দিন পর নাজমুল শান্ত (৫০) তৃতীয় উইকেট জুটির ১২০ রান বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেছে।

৩৫.৩ ওভারে ১৯৯/৪ করে ৬ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তবুও বলবো তামিম আর ১০০ ওডিআই খেলা লিটনের আউট হওয়ার ধরন দৃষ্টিকটু লেগেছে। যাক সেই কথা কাল জয়ে সিরিজে ফিরে আসা ছিল স্বস্তির।

আশা করি চট্টগ্রাম উইকেট স্পোর্টিং থাকবে। ওই ম্যাচের জন্য স্কোয়াডে সংযুক্ত করা হয়েছে তানজিম সাকিবকে। রোটেশন পদ্ধতিতে হয়ত তাসকিন আর শরিফুলকে বিশ্রাম দিয়ে তানজিম আর মুস্তাফিজকে খেলানো হবে। সিরিজ জয় বাংলাদেশের ভীষণ জরুরি। আশা করি একটি ম্যাচ খেলিয়ে সৌম্যকে বাদ দেওয়া হবে না।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

নিউজিল্যান্ড ১৯৮ অল আউট ৪৮.৪ ওভার (নিক কেলি ৮৩, মোহাম্মদ আব্বাস ১৯, নাথান স্মিথ ১৮, নাহিদ রানা ৫/৩২ , শরিফুল ইসলাম ২/৩২)

বাংলাদেশ ১৯৯/৪ ৩৫.৩ ওভার (তানজিদ হাসান তামিম ৭৬, নাজমুল হোসেইন শান্ত ৫০, তাওহীদ হৃদয় ৩০* , জেইডেন লেনক্স ২/৩৬)

বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী। সিরিজ অবস্থান  ১-১ সমতা

ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: নাহিদ হাসান রানা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × 1 =