এবার ৬৬ দলের বিশ্বকাপের পরিকল্পনা ফিফার

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবার ভাবছে ৬৬ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ডায়রিও এএস জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু ঘোষণা করেনি ফিফা, তবে ফুটবল অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই পৃথিবী থেমে যাওয়ার মতো এক আয়োজন! চার বছর পরপর এক মাসের জন্য যেন পুরো গ্রহটাই ঢুকে পড়ে এক বলের নিয়ন্ত্রণে। ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচি, ভেন্যু, দলসংখ্যা- সবই চূড়ান্ত। এখন শুধু মাঠে গড়ানোর অপেক্ষা। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ফুটবল বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন এক গুঞ্জন ৪৮ দলও নাকি যথেষ্ট নয়!

প্রস্তাবটির সূচনা নাকি দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন- কনমেবল থেকে। কয়েক মাস আগে তারা ফিফার কাছে ৬৬ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের ধারণা তুলে ধরে। মূল উদ্দেশ্য একটাই-যেসব দেশ বারবার বিশ্বকাপের দরজা পর্যন্ত গিয়েও ঢুকতে পারে না, তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করা।

এএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি প্রথমে শুধু আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশনের আগ্রহে সেটি নতুন গতি পেয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও উদীয়মান ফুটবল দেশগুলো এই ধারণাকে স্বাগত জানাচ্ছে। কারণ বিশ্বকাপ বড় হলে স্বপ্নও বড় হবে!

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে দলসংখ্যা বাড়ার গল্পটা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে খেলেছিল মাত্র ১৩টি দল। সেই ছোট্ট টুর্নামেন্টই ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসবে। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২-এ। এরপর দীর্ঘ সময় একই ফরম্যাটে চলেছে বিশ্বকাপ।

কিন্তু ২০২৬ সাল থেকেই বদলে যাচ্ছে সেই চিত্র। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া আগামী বিশ্বকাপে অংশ নেবে ৪৮টি দল। ফলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে কেপভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান ও উজবেকিস্তানের মতো দেশকে। ফুটবলের মানচিত্রে নতুন রং যোগ করার এই উদ্যোগই এখন হয়তো আরও বড় রূপ নিতে যাচ্ছে।

শোনা যাচ্ছে, ২০৩০ বিশ্বকাপ থেকেই ৬৬ দলের ফরম্যাট নিয়ে ভাবছে ফিফা। আর সেটি হলে বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপন হবে এক অন্য মাত্রায়। কারণ ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের ঠিক ১০০ বছর পূর্ণ হবে সেই আসরে। স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগালের যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া সেই টুর্নামেন্ট ঘিরেই তাই সবচেয়ে বেশি আলোচনা।

তবে এর মাঝেও একটি গুঞ্জন আপাতত থেমে গেছে। দুই বছর পরপর ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের যে আলোচনা চলছিল, সেটি আপাতত বাতিল করেছে ফিফা। অর্থাৎ এখন পুরো মনোযোগ বিশ্বকাপের বিস্তার নিয়েই।

আগামী ১১ জুন শুরু হবে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপ। উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আর ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নামবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে।

তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়ে গেছে। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বকাপ কি সত্যিই আরও বড় হওয়া উচিত? নাকি অতিরিক্ত বিস্তার কমিয়ে দেবে টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতার মান?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

20 − 15 =