সালেক সুফী
ফ্রান্স ৩ : ১ সেনেগাল
ফিফা র্যাঙ্কিং: ফ্রান্স (৩) | সেনেগাল (১৭)
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী তারকাখচিত ফ্রান্স মুখোমুখি হয়েছিল আফ্রিকার শক্তিশালী দল সেনেগালের। প্রথমার্ধে অনুজ্জ্বল থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে স্বভাবসুলভ ছন্দে ফিরে এসে প্রাণবন্ত ফুটবল উপহার দিয়ে ৩-১ গোলের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ম্যাচে জোড়া গোল করে জাতীয় দলের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা ৫৮-এ উন্নীত করে তিনি অলিভিয়ে জিরুর ৫৭ গোলের রেকর্ড ভেঙে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪-এ।

তবে ম্যাচের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না ফ্রান্সের জন্য। প্রথমার্ধে বরং সেনেগালই ছিল বেশি আক্রমণাত্মক ও সংগঠিত। গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও পোস্টের বাধা ও দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণে এগিয়ে যেতে পারেনি আফ্রিকান দলটি।
২৫তম মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের শক্তিশালী শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েও সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করে সেনেগাল। অন্যদিকে, ফ্রান্স উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। ফলে বিশ্বজুড়ে ফরাসি সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ফ্রান্স। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের গতি বদলে দেয় তারা। কিলিয়ান এমবাপ্পে নিজের স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসেন এবং একের পর এক আক্রমণে সেনেগালের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলতে থাকেন।
এক পর্যায়ে সাদিও মানের বাধায় এমবাপ্পে পড়ে গেলে পেনাল্টির দাবি ওঠে, তবে ভিএআর সেই দাবি নাকচ করে দেয়।
অবশেষে ৬৬তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অধিনায়ক এমবাপ্পে।
৭৯তম মিনিটে উসমান দেম্বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ব্রাডলে বারকোলা। মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পিএসজির এই ফরোয়ার্ড (২-০)।
তবে লড়াই ছাড়েনি সেনেগাল। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ১৮ বছর বয়সী এমবায়ে অসাধারণ এক গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন।
কিন্তু আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরের আক্রমণেই ট্রেডমার্ক গতিতে বক্সের বাইরে থেকে অবিশ্বাস্য এক শটে জাল খুঁজে নেন এমবাপ্পে। তাঁর দ্বিতীয় গোলেই ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স।
ফেভারিট দলগুলোর একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো—তারা ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দে ফিরে আসে। আর যে দলে কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো সৃজনশীল ও বিধ্বংসী গোলস্কোরার থাকেন, সেই দলের সাফল্য অনেক সময় নিজেই এসে ধরা দেয়।
বিশ্বকাপের শুরুতেই ফ্রান্স প্রমাণ করে দিল, কেন তারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার।
সেনেগালের একাদশ
এদুয়ার্দ মেন্দি (গোলরক্ষক), ক্রেপিন দিয়াতা, কালিদু কুলিবালি, মুসা নিয়াখাতে, এল হাজি মালিক দিউফ, লামিনে কামারা, ইদ্রিসা গানা গেয়ে, পাপে গেয়ে, ইসমাইলা সার, নিকোলাস জ্যাকসন ও সাদিও মানে।
ফ্রান্সের একাদশ
মাইক মাইনিয়ঁ (গোলরক্ষক), দায়োত উপামেকানো, জুলস কুন্দে, উইলিয়াম সালিবা, থিও হার্নান্দেজ, অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি, আদ্রিয়াঁ রাবিও, উসমান দেম্বেলে, কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে ও দেজিরে দুয়ে।