উলানবাটোর, মঙ্গোলিয়া, ২৫ আগস্ট ২০২৬: খরা সহনশীলতা জোরদারে আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
মঙ্গলবার মঙ্গোলিয়ার উলানবাটোরে জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশনের (ইউএনসিসিডি) ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ-১৭)-এর ‘খরা সহনশীলতা ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে খরা ও ভূমি অবক্ষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিয়মিত খরা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমছে। অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎসকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বন্যা ও নদীভাঙন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি জানান, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন হেক্টর জমি খরাপ্রবণ। প্রায় ১৬ হাজার গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে অনেক এলাকায় পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এ কারণে এসব এলাকায় নতুন সেচ কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি-আবহাওয়া তথ্য ব্যবস্থা বা বামিসের মাধ্যমে খরার সূচক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কৃষকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা, ভয়েস কল ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফসলভিত্তিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জাতীয় সবুজ মিশনের আওতায় সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকৃতিনির্ভর খরা মোকাবিলার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ভূপৃষ্ঠের পানির প্রাপ্যতা বাড়বে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে।
উপকূলীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে লবণাক্ত পানি কৃষিজমি ও খাবার পানির উৎসে প্রবেশ করছে। এতে লাখো মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। এ সংকট মোকাবিলায় উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা ভূমি অবক্ষয় মোকাবিলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। খরা সহনশীলতা গড়ে তুলতে অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা ও ন্যায্য পানি বণ্টনকে মূল ভিত্তি করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত খরা মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক খরা সহনশীলতা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের বামিসের তথ্য ওই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন।
পাশাপাশি খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণে প্রযুক্তি হস্তান্তর আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ খরা ও ভূমি অবক্ষয়ের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আগাম প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতাভিত্তিক একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক খরা সহনশীলতা কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সংলাপে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিনিধি দলের প্রধানদের পাশাপাশি খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, ইউনিসেফ, জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয়, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক এবং আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।