খর্ব শক্তির নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে গেলো পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশ

সালেক সুফী

মিরপুরে শেরে বাংলা জাতীয়  ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৈশাখের তপ্ত দিনে কাল পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশ ক্রিকেট দল খর্ব শক্তির নিউজিল্যান্ড দলের কাছে ২৬ রানে হেরে তিন ম্যাচ সিরিজে ০-১ পিছিয়ে গেলো। প্রথম চয়েস একাদশের মাত্র তিন জন নিয়ে খেলা অতিথি দল টস জিতে অসম বাউন্সের দ্রুত গতির উইকেটে ২৪৭/৮ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক স্কোর গড়েছিল। সেই রান তাড়া করে বাংলাদেশ টপ আর মিডল অর্ডার ব্যাটিং ব্যার্থতায় ২২১ রানে গুটিয়ে যায়। পরাজয় ২৬ রানে। এই জয়ের জন্য নিঃসন্দেহে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট গভীরতা আর সুনির্দিষ্ট কৌশলের প্রতিফলন। ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রীড়া প্রেমিক দেশটির একঝাঁক প্রান্তিক খেলোয়াড় সমৃদ্ধ দলের কাছে নিজেদের মাঠে পরিচিত পরিবেশে বাংলাদেশের পরাজয় বাংলাদেশের জন্য দুঃখজনক। পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে এখন পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক কৌশল প্রয়োগ করে দ্রুত সিরিজে ফিরতে হবে।

কাল ম্যাচে অধিনায়ক টম লাথাম, টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হেনরী নিকলস আর উইলী ইয়ং ছাড়া ৮ জন ছিল নবাগত। যাদের কয়েক জনের মাত্র দুই একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। শীতের দেশ থেকে এসে বাংলাদেশের বৈশাখের উষ্ণ আদ্র আবহাওয়ায় মানিয়ে নেয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল। উইকেটে পেস বাউন্স ছিল। কিছুটা অসম বাউন্সের উইকেটের সঙ্গে পেশাদারি দক্ষতায় নিজেদের প্রয়োগ করে ব্ল্যাক ক্যাপসরা মানিয়ে নিয়েছিল। নবাগত নিক কেলির (৭) উইকেট শরিফুল দ্রুত তুলে নেয়ার পর দেখেশুনে খেলে হেনরী নিকলস (৬৮) আর উইল ইয়ং (৩৯) দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৭৩ রান যোগ করে ইনিংসে স্থায়িত্ব এনে দেয়। শুরুতে অবশ্য ইয়ংয়ের সহজ ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ উইকেট অনুযায়ী টাইট লেংথ এবং লাইনে বল করলেও ব্ল্যাক ক্যাপসরা কিন্তু সতর্কতার সঙ্গে খেলেছে। শরীফুল (২/২৭) ধারাবাহিক থাকলেও কাল নাহিদ (১/৬৫), মিরাজ (১/৫৪ ), তাসকিন (২/৫০) যথেষ্ট খরুচে ছিল। ১৩১ রানে লাথাম, নিকলস, ইয়ং সহ ৪ উইকেটের পতন ঘটার পরেও নবীন খেলোয়াড় সমৃদ্ধ নিউজিলান্ড দলকে ২০০ রানের নিচে সীমিত না করতে পারা ছিল বাংলাদেশের ব্যার্থতা। আমি অবশ্যই ডিন ফক্সক্রট (৫৯) আর নাথান স্মিথের (২১*) লড়াকু ইনিংসকে কৃতিত্ব দিবো। অতীত ইতিহাস বলে বাংলাদেশ খুব কম ক্ষেত্রেই পরে ব্যাটিং করে ২৪৮ রানের টার্গেট সফল ভাবে অতিক্রম করেছে।

তাহলো না কালও।  শুরুতেই নাথান স্মিথ তানজিদ তামিম  (২) আর নাজমুল শান্তর (০) উইকেট উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে কোনঠাসা করে ফেলে। বাংলাদেশ ৩০০ + রান তাড়া করছিলো না। শুরুতেই তেড়ে ফুঁড়ে আক্রমনাত্মক স্টোকস খেলার চেষ্টায় আত্মাহুতি দেয় তানজিদ তামিম। শান্তর বলটি অবশ্য নিচু হয়ে মাটি কামড়িয়ে এসেছিলো। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ভালো খেলে সাইফ হাসান (৫৭) আর লিটন দাস (৪৬) ৯৩ রান যোগ করে জয়ের আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু সাইফ আর লিটনের কেউ নিজেদের ইনিংস দুটো ম্যাচ জয়ী ইনিংসে পরিণত করতে পারলো না। এটি বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ের অন্যতম দুর্বলতা। ভালো শুরু করেও অধিকাংশ সময় টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ইনিংসগুলো কাঙ্খিত পরিণতিতে টেনে নিতে পারে না।

ওদের বিদায়ের পর একমাত্র তাওহীদ হৃদয় (৫৫)  ছাড়া বাকি সবাই ব্যার্থ হওয়ায় বাংলাদেশ ২২১ রানে গুটিয়ে যায়। দৃষ্টিকটু ছিল আফিফ হোসেনের ৪৯ বলে হাস ফাস করা ২৭ রানের ইনিংস। বাংলাদেশের দুর্বল মিডল অর্ডার আর লম্বা লেজ বার্থ হবে এমন শঙ্কা ছিল। হলো তাই।

নিউ জিল্যান্ডের হয়ে ব্লেয়ার টিকণার (৪/৪০) আর নাথান স্মিথ (৩/৪৫) ছিল সফল বলার। নিউ জিল্যান্ড বোলিং আক্রমণ কিন্তু যথেষ্ট শক্তিশালী।

বাংলাদেশের পরাজয়ের কোন অজুহাত নেই। উইকেট অনুযায়ী বাংলাদেশ যথাযথ বোলিং করেছে বলবো না। ২-৩ ক্যাচ ফেলে দিয়েছে। তার পরেও ২৪৮ রান করে ম্যাচ জয় আওতার বাইরে ছিল না। অপরদিকে এই সফরে নিউজিলান্ডের লক্ষ্য হলো প্রান্তিক খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে পরিণত করা। সেই পরীক্ষায় প্রথম ম্যাচে সফল হওয়ার কৃতিত্ব ওদের দিতেই হবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর কার্ড:

নিউজিল্যান্ড ২৪৭/৮ (হেনরি নিকলস ৬৮, ডিন ফক্সক্রফ্ট ৫৯, উইল ইয়ং ৩০, নাথান স্মিথ ২১, শরিফুল ইসলাম ২/২৭, রিশাদ হোসেন ২/৪৪, তাসকিন আহমেদ ২/৫০)

বাংলাদেশ ২২১ অল আউট (সাইফ হাসান ৫৭, তাওহীদ হৃদয় ৫৫, লিটন কুমার দাস ৪৬, ব্লেয়ার টিকনাৰ ৪/৪০, নাথান স্মিথ ৩/৪৫)

নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী।

ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় : ডিন ফক্সক্রট।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

20 − 4 =