পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট জিততে ম্যাচের শেষ দিন ৩ উইকেট দরকার স্বাগতিক বাংলাদেশের। পাকিস্তানের প্রয়োজন ১২১ রান। খবর বাসস
মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ৪৩৭ রানের জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান করেছে পাকিস্তান। এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ ও পাকিস্তান ২৩২ রান করেছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩৯০ রান।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের শেষ দিকে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য পায় পাকিস্তান। জবাবে দিনের শেষভাগে ২ ওভার ব্যাট করে কোন রান তুলতে পারেনি সফরকারীরা।
চতুর্থ দিনের শুরুতে ভালো শুরু করেও দলীয় ২৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজলকে ৬ রানে বিদায় দেন বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানা।
উইকেটে সেট পাকিস্তানের আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। ২টি চারে ২১ রান করেন আজান।
৪১ রানে ২ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশ বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজম। ওয়ানডে মেজাজে খেলে ৬১ বলে ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ভালোভাবেই দিনের প্রথম সেশন শেষ করেন তারা। এসময় পাকিস্তানের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১০১ রান।
বিরতির পরও জুটি বড় করার চেষ্টায় ছিলেন মাসুদ ও বাবর। ক্যারিয়ারের ৩২তম টেস্ট হাফ-সেঞ্চুরির পথে হাঁটতে থাকা বাবর। কিন্তু বাবরকে ৪৭ রানে থামিয়ে দিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান বাবর। মাসুদ-বাবর জুটি পাকিস্তানকে ৯২ রান উপহার দেন। বাবরের বিদায়ে নতুন ব্যটার হিসেবে ক্রিজে এসে ব্যক্তিগত ৬ রানে বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানার শিকার হন সৌদ শাকিল।
অন্যপ্রান্তে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ইনিংস বড় করার পথে ছিলেন মাসুদ। তবে আবারও পাকিস্তান শিবিরে আঘাত হানেন তাইজুল। লেগ স্ট্যাম্পের বল লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে তাইজুলের বলে শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন মাসুদ। ১১৬ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৭১ রান করেন পাকিস্তান দলনেতা। চা-বিরতির আগে ১৬২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
ষষ্ঠ উইকেটে ৩৮ রানের জুটি গড়ে চা-বিরতিতে যান মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আঘা। বিরতির পরও ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছেন তারা। শতরানের জুটিতে বাংলাদেশের কপালে চিন্তার ভাজ ফেলে দেন সালমান ও রিজওয়ান।
বারবার বোলার পরিবর্তন করেও সাফল্য পাচ্ছিলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অবশেষে ৮২তম ওভারে বাংলাদেশের মুখে হাসি ফোটান স্পিনার তাইজুল। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে দলীয় ২৯৬ রানে সালমানকে বোল্ড করেন তিনি। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ১০২ বলে ৭১ রান করেন সালমান। রিজওয়ানের সাথে ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৪ রানের জুটি গড়েন সালমান।
সালমানের আউটে ক্রিজে আসা হাসান আলিকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাইজুল। রানের খাতা খোলার আগে স্লিপে শান্তকে ক্যাচ দেন হাসান।
৩০৪ রানে সপ্তম উইকেটের পতনের পর দিনের শেষ ১৬ বল বিপদ ছাড়াই শেষ করে টেস্ট পঞ্চম দিনে নেন রিজওয়ান ও সাজিদ খান। ৭ উইকেটে ৩১৬ রানে দিন শেষ করে পাকিস্তান। ৮টি চারে রিজওয়ান ৭৫ এবং সাজিদ ৮ রানে অপরাজিত আছেন।
তাইজুল ১১৩ রানে ৪টি, রানা ২টি এবং মিরাজ ১ উইকেট নেন।
মিরপুরে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্ট ১০৪ রানে জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে টাইগাররা।