তৃতীয় দিনশেষে পাকিস্তানকে ধবল ধোলাইয়ের অবস্থানে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-পাকিস্তান  টেস্ট

টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ টেস্ট এবং সিরিজে ধবল ধোলাই অর্জনের জন্য বলা যায় অনেকটা নিশ্চিত অবস্থানে আছে.বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের অনন্য মাইলফলক  ১৪ ম শতরান (১৩৭) আর লিটন ( ৬৯) ,জয় (৫২) কল্যানে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান করে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সামনে ৪৩৬ রানের হিমালয় পাহাড় চূড়া তুলে ধরেছে। হাতে দুই দিন সময় থাকলেও নতুন ইতিহাস সৃষ্টি  করে দুর্গম গিরি কান্তার মরু পাড়ি দিতে হবে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত পাকিস্তানকে। একমাত্র প্রকৃতি হবে পারে সাহায্য কর্তা। বাকি দুই দিনের ৬ সেশনের অধিকাংশ সময় বৃষ্টি বিঘ্নিত না হলে উজ্জীবিত বাংলাদেশ টেস্ট জয় এবং সিরিজে উপর্যুপরি দ্বিতীয় ধবল ধোলাই অর্জন করতে চলেছে বলা যেতেই পারে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ২৭৮ রানের জবাবে ২৩২ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিলো বাংলাদেশ। বলল যাওয়া বাংলাদেশ কাল দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করে ৩৯০ রানে। দিনশেষে আলোর অভাবে মাত্র তাসকিন আর শরিফুলের আগ্রাসী দুটি ওভার থেকে কোন রান করতে পারে নি পাকিস্তানের দুই তরুণ ওপেনার আজান আইওয়াজ আর আব্দুল্লাহ ফজল। এই মুহূর্তে কেউ ভাবছে না পাকিস্তানের জয়ের কথা. বাংলাদেশের দুর্দান্ত পেস স্পিন ভারসাম্য আক্রমণের সামনে কতটা প্রতিরোধ সৃষ্টি করতে পারবে পাকিস্তান সেটি এখন দেখার বিষয়।

কাল যখন তৃতীয় দিন সকালে বাংলাদেশ ১১০/৩ বাংলাদেশ দ্বিতীয় শুরু করে  দল তখন ৭ উইকেট হাতে রেখে ১৫৬ রান এগিয়ে। খুররম সাজ্জাদ দ্রুত নাজমুল শান্তর (১৫) উইকেট তুলে দিয়ে আশা  জাগালেও.বাংলাদেশের দুই ব্যাটিং মেরুদন্ড মুশফিক আর লিটন ৫ম উইকেট জুটিতে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারক ১২৩ রান যোগ করে পাকিস্তান দলকে হতাশার সিন্দু নদে ডোবায়।  লিটন তার আগ্রাসী ৬৯ রানের ইনিংসে নানা ধরণের আক্রমণাত্মক স্ট্রোকস খেলে দুই একবার সুযোগ দিলেও আপন ছন্দে জীবনানন্দে মুশফিক ছিল অটল হিমাদ্রির মত।  লিটন ফিরে যাবার পর মুশফিকের চিরায়ত রূপ আবারো প্রদর্শিত হয়. নিজস্ব মাইল ফলক বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক ১৪ শত রান আর তিন ফরমেট মিলিয়ে ১৬০০০ রান অর্জনের পথে মুশফিক তাইজুলের সঙ্গে ৭ম উইকেট জুটিতে ৭৭ রানের জুটি গড়ে. শেষ ব্যাটসম্যান হিসাবে আউট হবার আগে মুশফিক ১৩৭ রানের একটি স্বর্ণোজ্জল ইনিংস উপহার দেয়।  পাকিস্তান দলকে ১০২.২ ওভার মাঠে রেখে ৩৯০ রানে ইনিংস শেষ করে পরাজয় এড়ানোর জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।  সবাই দেখেছে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ দলকে চ্যালেঞ্জ করার মত বোলিং আক্রমণ নেই পাকিস্তানের। তবুও প্রথম টেস্টে উপেক্ষিত খুররম সাজ্জাদ প্রথম ইনিংসে ( ৪/৮১) র মত দ্বিতীয় ইনিংসেও (৪/৮৬) নিয়ে নিজেরে উজাড় করে দেয়।  সাজিদ খান ৩৩.২ ওভার বোলিং করে ১২৬ রানের বিনিময়ে তুলে নেয় ৩ উইকেট। বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম ইমরান খান ,ওয়াসিম আকরাম,শোয়েব আক্তার আর ওয়াকার ইউনিসের উত্তরসূরিরা পুরো সফরেই ধারাবাহিক ভাবেও ১৩৫ কিলোমিটার গতিতেও বল করতে পারে নি.

পাকিস্তানের সামনে এখন বিশাল রানের পাহাড়।  হাতে দুই দিনের ৬ সেশন থাকলেও টেস্ট জয় করতে নতুন বিশ্ব রেকর্ড করতে হবে. এখন চ্যালেঞ্জ টেস্ট পরাজয় এবং সিরিজ ধবল ধোলাই এড়ানো। তাসকিন ,নাহিদ ,শরিফুল ,তাইজুল ,মেরাজ সমন্বয়ে গোড়া আগ্রাসী বোলিং আক্রমণ মোকাবিলা করে টিকে থাকাই হবে বিশাল চ্যালেঞ্জ। ক্রিকেট অঘটন ঘটন পটীয়সীদের খেলা। পাকিস্তানে আছে বাবর আজম।  তবুও বলব পাকিস্তানকে সিরিজ ধবল ধোলাই থেকে বাঁচাতে পারে শুধুমাত্র প্রকৃতি। সাধারণ বিবেচনায় আজ দিনের খেলা শেষ হবার আগেই হয়ত ম্যাচ জিতে নিবে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড ,

বাংলাদেশ  প্রথম ইনিংস : ২৭৮ অল আউট ( লিটন কুমার দাস ১২৬, নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯, তানজিদ হাসান তামিম ২৬, মুশফিকুর রহিম ২৩, মোমিনুল হক ২২, তাইজুল ইসলাম ১৬. খুররাম সাজ্জাদ ৪/৮১ , মোহাম্মদ আব্বাস ৩/৪৫. হাসান আলী ২/ ৪৯)

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস ৩৯০ অল আউট  ( মুশফিকুর রহিম   ১৩৭,  .লিটন কুমার দাস ৬৯,  মাহমুদুল হাসান জয় ৫২, মোমিনুল হক ৩০, তাইজুল ইসলাম ২২, খুররম সাজ্জাদ ৪/৮৬, সাজিদ খান ৩/ ১২৬)

পাকিস্তান প্রথম ইনিংস : ২৩২ অল আউট ( বাবর আজম ৬৮, সাজিদ খান ৩৮, শান মাসুদ ২১, সালমান আগা ২১, নাহিদ রানা ৩/৬০, তাইজুল ইসলাম ৩/৬৭.মেহেদী মিরাজ ২/২১ ,তাসকিন আহমেদ ২/৩৭)

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস  দুই ওভারে ০/০।  পাকিস্তানের টার্গেট ৪৩৭। বাংলাদেশের প্রয়োজন ১০ উইকেট।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

six + 20 =