জলবায়ু সহনশীলতা গড়তে নারীর নেতৃত্ব জরুরি: এমজেএফের সম্মেলনে বক্তারা

জলবায়ু অভিযোজন, কৃষি ও টেকসই উন্নয়নে নারীর নেতৃত্ব, স্থানীয় জ্ঞান, অবৈতনিক সেবামূলক কাজ ও অর্থনৈতিক অবদানের যথাযথ স্বীকৃতির আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনের কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী অডিটোরিয়ামে তৃতীয় অ্যানুয়াল কমিউনিটি অব প্র্যাকটিস (কপ) নেটওয়ার্ক কনভেনশন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়।

‘উইমেন লিডিং ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন: লার্নিং অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। ইউএন উইমেনের সহায়তায় এমপাওয়ার: উইমেন ফর ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট সোসাইটিজ (ফেজ টু) প্রকল্পের আওতায় এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি কৃষি, জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই উন্নয়নে নারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি দিতে হবে।

ড. লুৎফর রহমান বলেন, কৃষিতে নারীরা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। খাদ্য উৎপাদন, উদ্ভাবন ও স্থানীয় পর্যায়ের সহনশীলতা তৈরিতে নারীরা এখনো কেন্দ্রে রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় এমন সমাধান দরকার, যা একই সঙ্গে বাস্তবসম্মত ও অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর। কার্বন নিঃসরণ কমাতে খড়সহ কৃষিজ অবশিষ্টাংশ ব্যবহারের মতো বিভিন্ন পদ্ধতি পরিবেশ অধিদপ্তর বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত জলবায়ু অভিযোজন উদ্যোগে নারীর অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃতি পাওয়া জরুরি। জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়তে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিবেশ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুবিধা দিতে প্রস্তুত।

সুইডেন দূতাবাসের জনস্বাস্থ্য এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকারবিষয়ক ফার্স্ট সেক্রেটারি সুজানি ওয়াডস্টেইন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই বিষয়গুলোকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারাই মাঠে কাজ করছেন। আপনারাই আপনাদের কাজ সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তাই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা আপনাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ইউএন উইমেনের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ নভনিতা সিনহা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নয়ন উদ্যোগের অর্থায়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও উন্নয়ন কার্যক্রমের মান বজায় রাখা, বাস্তবায়নকারী সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদার করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, নারীর নেতৃত্ব, অবৈতনিক সেবামূলক কাজ এবং অর্থনীতিতে নারীর অবদান জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেটে যথাযথভাবে স্বীকৃতি পেতে হবে।

তিনি বলেন, নারীর অবৈতনিক ও অস্বীকৃত কাজের স্বীকৃতি আদায়ে এমজেএফ ২০১২ সাল থেকে কাজ করছে। পরে ইউএন উইমেনের সহায়তায় টাইম-ইউজ সার্ভে করা হয় এবং স্যাটেলাইট সিস্টেম অব অ্যাকাউন্টসের মাধ্যমে এ কাজের মূল্য নিরূপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, আমাদের যাত্রা মাত্র শুরু হয়েছে। সামনে পথ আরও কঠিন হবে, সম্পদের দিক থেকেও, সামাজিক অবস্থানের দিক থেকেও।

সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের গভর্ন্যান্স, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শিরিন সুলতানা লিরা বলেন, জলবায়ু অভিযোজন উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নিশ্চিত করতে কমিউনিটিভিত্তিক অংশীদারত্ব ও স্থানীয় মালিকানা অপরিহার্য।।

ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশের (সিসিডিবি) নির্বাহী পরিচালক জুলিয়েট কেয়া মালাকার নারীর নেতৃত্বে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রম শক্তিশালী করতে সম্মিলিত অ্যাডভোকেসির ওপর গুরুত্ব দেন।

কুড়িগ্রাম, জামালপুর, খুলনা ও সাতক্ষীরার নারী জলবায়ু নেতাদের স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীলতা ও কমিউনিটি উদ্যোগে অবদানের জন্য সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১০টি সহযোগী সংগঠনকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

সম্মেলনে নারী নেতা, জলবায়ু অভিযোজনকর্মী, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন। তারা নারীর নেতৃত্বে জলবায়ু সহনশীলতা উদ্যোগের অর্জন, অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eight + fifteen =