সালেক সুফী
আর্জেন্টিনা ৩ আলজেরিয়া ০
ফিফা র্যাঙ্কিং: আর্জেন্টিনা ১ আলজেরিয়া ২৮
কেন লিওনেল মেসিকে ভিন্ন গ্রহের এলিয়েন বলা হয়, তার আরেকটি উজ্জ্বল প্রমাণ দেখল ফুটবল বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত জি গ্রুপের প্রথম ম্যাচে জাদুকরী হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন মেসির পারফরম্যান্স দেখার জন্য। একই দিনে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আরলিং হালান্ড নিজেদের ম্যাচে জোড়া গোল করলেও আলো কেড়ে নিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ম্যাচের শুরুতেই বাম পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ালেও প্রযুক্তির সহায়তায় তৃতীয় রেফারি সেটিকে অফসাইডের কারণে বাতিল করেন। কিছুক্ষণ পর আলজেরিয়ার একটি গোলও বাতিল হয়।

এরপর ১৭তম মিনিটে রদ্রিগো দি পলের কাছ থেকে বল পেয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে অসাধারণ এক শটে প্রথম গোলটি করেন মেসি। তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
৬০তম মিনিটে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। এরপর ৭৬তম মিনিটে আরেকটি চোখধাঁধানো গোল করে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।
দাপুটে এই জয় দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে উঠে এসেছেন মেসি। ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর ১৫ গোলকে ছাড়িয়ে তিনি স্পর্শ করেছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড। এখন বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যাও ১৬।
তবে ৩-০ ব্যবধানে হারলেও আলজেরিয়াকে দুর্বল দল বলা যাবে না। সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে তারা আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে চাপে ফেলেছে। বিশেষ করে মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগে কিছু দুর্বলতা এখনও চোখে পড়েছে। ফ্রান্স, স্পেন কিংবা পর্তুগালের মতো কৌশলী দলগুলো এই দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে একটাই বিস্ময় জাগে—৩৯ বছর বয়সেও কী অসাধারণ তারুণ্য, উদ্যম ও সৃজনশীলতায় ভরপুর লিওনেল মেসি! তাঁর বাম পায়ের নিপুণ স্পর্শে গোলগুলো যেন রঙতুলি দিয়ে আঁকা শিল্পকর্ম।
হয়তো এটাই হতে যাচ্ছে মেসির শেষ বিশ্বকাপ। ব্যক্তিগতভাবে আমি ব্রাজিলের সমর্থক হলেও চাইব, তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ বিদায়টা যেন সাফল্যের রঙে রাঙানো থাকে।
জি গ্রুপের বাকি দুই দল অস্ট্রিয়া ও জর্ডানকে দেখে মনে হচ্ছে না তারা আর্জেন্টিনার পথে বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে।