জাতিসংঘের মহাসচিব পদের দৌড়ে দ্বিতীয় দফায় এগিয়ে রদ্রিগেস-বিরকেট

দ্বিতীয় অনানুষ্ঠানিক ভোটে ৮টি ‘এনকারেজ’ ভোট, গ্রিনস্প্যান ও গ্রোসি পেয়েছেন ৭টি করে

শিব্বীর আহমেদ জাতিসংঘ সদর দপ্তর, নিউইয়র্ক

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে দ্বিতীয় অনানুষ্ঠানিক ভোটে এগিয়ে গেছেন গায়ানার প্রার্থী ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট। শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের গোপন ‘স্ট্র পোল’-এ তিনি ৮টি ‘এনকারেজ’ বা সমর্থনমূলক ভোট পেয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন কোস্টারিকার প্রার্থী রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবং আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি। দুজনই ৭টি করে ‘এনকারেজ’ ভোট পেয়েছেন। তবে গ্রোসি গ্রিনস্প্যানের তুলনায় বেশি ‘ডিসকারেজ’ ভোট পাওয়ায় গ্রিনস্প্যান সামগ্রিকভাবে এগিয়ে রয়েছেন।

রদ্রিগেস-বিরকেটের এই অগ্রগতি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ গত মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম অনানুষ্ঠানিক ভোটে গ্রিনস্প্যান ১০টি ‘এনকারেজ’ ভোট নিয়ে শীর্ষে ছিলেন। সে সময় রদ্রিগেস-বিরকেট ৯টি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। দ্বিতীয় দফায় গ্রিনস্প্যানের সমর্থন কমে ৭টিতে নেমে এসেছে, আর রদ্রিগেস-বিরকেট ৮টি ভোট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছেন।

আট প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা

এবারের মহাসচিব নির্বাচনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সর্বশেষ প্রার্থী হিসেবে ইকুয়েডরের কূটনীতিক ইভোনে বাকি প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়ার পর প্রার্থীর সংখ্যা আটে দাঁড়ায়। প্রার্থীদের মধ্যে রদ্রিগেস-বিরকেট, গ্রিনস্প্যান ও গ্রোসি বর্তমানে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে উগান্ডার ওলারি ওতুনু, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাকি সাল, চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট, ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা এবং ইকুয়েডরের ইভোনে বাকিও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

রদ্রিগেস-বিরকেটের সম্ভাবনা

গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রদ্রিগেস-বিরকেট বর্তমানে জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নির্বাচিত হলে জাতিসংঘের প্রথম ক্যারিবীয় অঞ্চলের এবং প্রথম নারী মহাসচিব হওয়ার সুযোগ পাবেন। তাঁর প্রার্থিতা ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সমর্থনও পেয়েছে।তবে দ্বিতীয় দফার ভোটে শীর্ষে ওঠা মানেই চূড়ান্ত বিজয় নয়। নিরাপত্তা পরিষদের এই ভোটগুলো অনানুষ্ঠানিক এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও কয়েক দফা কূটনৈতিক আলোচনা ও ভোট হতে পারে। পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স—যে কোনো প্রার্থীর চূড়ান্ত নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গ্রিনস্প্যানের লড়াইও শক্ত

প্রথম দফায় শীর্ষে থাকা রেবেকা গ্রিনস্প্যান দ্বিতীয় দফায় এক ধাপ পিছিয়ে গেলেও এখনো প্রতিযোগিতার অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী। তিনি কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমানে জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা UNCTAD-এর মহাসচিব। অন্যদিকে রাফায়েল গ্রোসি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দ্বিতীয় দফায় গ্রিনস্প্যানের সমান ৭টি ‘এনকারেজ’ ভোট পেলেও তাঁর ‘ডিসকারেজ’ ভোট বেশি হওয়ায় অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে

জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষে শেষ হবে। নতুন মহাসচিব ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার কথা। নিরাপত্তা পরিষদ শেষ পর্যন্ত একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করবে এবং সাধারণ পরিষদ সেই প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেবে।

সুতরাং দ্বিতীয় অনানুষ্ঠানিক ভোটে রদ্রিগেস-বিরকেট এগিয়ে গেলেও মহাসচিব নির্বাচনের লড়াই এখনো উন্মুক্ত। সামনে আরও কূটনৈতিক দর-কষাকষি ও ভোটের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটি আরও পরিষ্কার হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eight + 16 =