তানজিদ-সৌম্যর ব্যাটে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বাংলাদেশ

টেস্ট ও প্রথম দুই ওয়ানডেতে টানা পরাজয়ের হতাশা কাটিয়ে শেষ ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত ব্যাটিং, সৌম্য সরকারের ফর্মে ফেরা এবং শরিফুল ইসলামের বিধ্বংসী বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়িয়েছে টাইগাররা।

শনিবার হারারের স্পোর্টস ক্লাবে ১৯৯ রানের লক্ষ্য মাত্র ৩৬ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। যদিও সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে, শেষ ম্যাচের জয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে টাইগারদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। নতুন বলে শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ২৭ রানেই জিম্বাবুয়ের প্রথম তিন ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন।

প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ইনোসেন্ট কাইয়া ও ওয়েসলি মাধেভেরে চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কাইয়া ২৫ রান করে বিদায় নিলেও মাধেভেরে ৭৪ বলে ৭৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স ৪৩ বলে ঝড়ো ৫০ রান করে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। তবে ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন। তাসকিন আহমেদ ও তানভীর ইসলাম দুটি করে উইকেট শিকার করেন। একটি উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিম। পাওয়ারপ্লেতে বিনা উইকেটে ৫৯ রান তুলে তারা জয়ের ভিত গড়ে দেন।

দুজন মিলে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১৫১ রান, যা কার্যত ম্যাচটি বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যায়। সৌম্য ৮২ বলে ৬৯ রান করে আউট হলেও অপর প্রান্তে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তানজিদ। বাঁহাতি এই ওপেনার মাত্র ৯৪ রানে থেমে গেলেও তার ইনিংসে ছিল দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও ছক্কার ঝলক। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত শতক থেকে মাত্র ছয় রান দূরে বিদায় নেন তিনি।

পরে তাওহিদ হৃদয় শূন্য রানে ফিরলেও নাজমুল হোসেন শান্ত ১৮ রানে অপরাজিত থেকে নুরুল হাসান সোহানকে সঙ্গে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। হাতে তখনও বাকি ছিল ৮৪ বল।

এই জয় সিরিজের ফল পাল্টাতে না পারলেও দীর্ঘ সময়ের ব্যর্থতার পর বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে শরিফুল ইসলামের কার্যকর বোলিং, সৌম্য সরকারের আত্মবিশ্বাসী প্রত্যাবর্তন এবং তানজিদ হাসান তামিমের ম্যাচজয়ী ইনিংস আগামী টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে দলের জন্য বড় ইতিবাচক দিক হয়ে দেখা দিয়েছে।

এবার দুই দলের লড়াই গড়াবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে। আগামী ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তিনটি ম্যাচ। ওয়ানডের শেষ ম্যাচের জয়কে পুঁজি করে সংক্ষিপ্ত সংস্করণেও জয়ের ধারায় ফিরতে চাইবে বাংলাদেশ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 − 14 =