সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, সরকার আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সাশ্রয়ী জ্বালানির দিকে যেতে চায়।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশনের কাউন্সিল হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, আগামী জুনের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি চূড়ান্ত করা হবে, যা হবে বিনিয়োগবান্ধব। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাতিল হওয়া সোলার প্রকল্পগুলোও পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। এ জন্য এরইমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যোগ্য প্রকল্পগুলো পুনরায় অনুমোদন দেয়া হবে।
জনগণ যেন কম খরচে বিদ্যুৎ পায়, সেভাবেই সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তার মতে, আগের সরকার পুরোপুরি আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, কারণ এতে অর্থ পাচারের সুযোগ ছিল।
সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের মতো দেশ যদি ২৭ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারে, তাহলে বাংলাদেশও পারবে। এজন্য সোলার খাতে নীতিগত সহায়তা বাড়ানো হবে। রেলওয়ে, পানি সম্পদ, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের খাস জমি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর এক হাজার মেগাওয়াট করে আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মানুষকে ভয় দেখিয়ে নয়, বরং প্রণোদনা দিয়ে সোলারের দিকে আনতে হবে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আগে থেকেই বলে আসছিলাম তেলের সংকট নেই। সংকট ছিল মানুষের মনে। সংসদে ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের পরই তেলের লাইনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।’