মিয়ামি, ১২ জুলাই – বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন নরওয়ের অধিনায়ক ও তারকা স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ড। তিনি বলেছেন, এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ের সাফল্য দেশটির ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে পরিচিত করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। খবর বাসস/এএফপি
মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠলেও টানা ১৪ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করার পর এই প্রথম গোলশূন্য থাকলেন হালান্ড।

ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার এবারের বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে সাত গোল করে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শেষ ষোলোতে তার জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে চমক দেখিয়েছিল নরওয়ে।
ম্যাচ শেষে হালান্ড বলেন, “নরওয়েকে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে তুলে ধরতে পেরেছি—এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি গর্বিত করে। আশা করি, এখন থেকে ইউরো, বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশ নেওয়ার ভিত্তি তৈরি হবে। আমাদের এই প্রজন্ম অসাধারণ, আর এই সাফল্য নরওয়ের তরুণদের বিশ্বাস দেবে যে দেশের জার্সি গায়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করা সম্ভব।”
তিনি বলেন, গত ছয় সপ্তাহের অভিজ্ঞতা যেন রোমাঞ্চকর এক যাত্রা। “আমি মনে করি, এই বিশ্বকাপ নরওয়ের ফুটবলকে বদলে দেবে, আমাকেও বদলে দিয়েছে। আমরা এমন একটি ভিত্তি তৈরি করছি, যা ধরে রাখতে পারলে নরওয়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল জাতিতে পরিণত হতে পারে।”

কোয়ার্টার ফাইনালে তার সাবেক বরুসিয়া ডর্টমুন্ড সতীর্থ জুড বেলিংহাম দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে জেতান। বেলিংহামের প্রশংসা করে হালান্ড বলেন, “ও বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। মিডফিল্ডার হয়েও নিয়মিত গোল করে, প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। জুডকে দলে পাওয়াটা ইংল্যান্ডের জন্য বড় সৌভাগ্যের।”
মিয়ামির তীব্র গরম ও ক্লান্তির কারণে অতিরিক্ত সময়ের বিরতিতে হালান্ডকে তুলে নেন নরওয়ের কোচ স্টালে সলবাক্কেন। কোচ জানান, দ্বিতীয়ার্ধে হালান্ড পায়ে আঘাতও পেয়েছিলেন এবং টানা কয়েকটি ম্যাচে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে খেলায় তিনি সম্পূর্ণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন।
সলবাক্কেন বলেন, “তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কঠিন ছিল না। হয়তো আরও আগেই বদলি করা উচিত ছিল। সে পাঁচ ম্যাচে সাত গোল করেছে এবং আমাদের জন্য অসাধারণ একটি বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছে।”
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা এবং পুরো টুর্নামেন্টে নরওয়ের লড়াকু পারফরম্যান্স দেশটির ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।