ফার্মেসি ও লাইফ সায়েন্সেসে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ বাড়াতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ক্যারিয়ার ফেয়ার

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ফার্মেসি অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস ক্যারিয়ার ফেয়ার ২০২৬’। ফার্মেসি, বায়োটেকনোলজি ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং শিল্প খাতের সঙ্গে তাদের সংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ফার্মাসিউটিক্যাল ও লাইফ সায়েন্সেস খাতের প্রায় ২৫টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অফিস অব ক্যারিয়ার সার্ভিসেস অ্যান্ড অ্যালামনাই রিলেশনস মেলাটি আয়োজন করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোশে বাংলাদেশ লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজার মিলোস ম্লাদেনোভিচ। শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পদ-পদবির চেয়ে সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব তৈরিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নিজেদের সক্ষমতা ও কোন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব—সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রথম চাকরি পুরো ক্যারিয়ার নির্ধারণ করে দেয় না। তাই নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ, কঠিন কাজ করতে ভয় না পাওয়া এবং মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সম্পর্ক তৈরির সক্ষমতা ও সৎ সাহস ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মিলোস ম্লাদেনোভিচ বলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে। এখন সেই ভিত্তির ওপর নিজেদের ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, লাইফ সায়েন্সেস খাতের পরিধি অনেক বিস্তৃত। গবেষণা ও উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, বিপণন ও ব্র্যান্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ খাতে কাজের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, লাইফ সায়েন্সেস খাতকে কার্যকরভাবে বুঝতে হলে পুরো ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে দেখতে হবে। প্রতিটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত এবং এসব সংযোগ বুঝতে পারলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি খাতে আরও কার্যকর অবদান রাখতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি বিভিন্ন কৌশলগত উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের পাশাপাশি শিল্প খাতের চাহিদা সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারে।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট লাইফের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ও হেড তাহসিনা রহমান।

উদ্বোধনী পর্বের পর রোশে বাংলাদেশ লিমিটেডের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স লিড মো. ইরতাজা মাহবুব আখন্দ ‘বিয়ন্ড বাউন্ডারিজ: আনলক ইয়োর ফিউচার উইথ রোশে বাংলাদেশ লিমিটেড’ শীর্ষক সেশন পরিচালনা করেন। রেনাটা পিএলসির চিফ পিপল অফিসার নিসবাত আনোয়ার ‘বিল্ডিং ইয়োর ফিউচার ইন ফার্মেসি অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম, স্কুল অব লাইফ সায়েন্সেসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিন প্রফেসর অপর্ণা ইসলাম, ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারপারসন শরমিন্দ নীলোৎপল, বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারপারসন ইফতেখার বিন নাসের এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারপারসন নাদিয়া সুলতানা দীন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব কমিউনিকেশন্সের ডিরেক্টর খায়রুল বাশার, হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর শাহরিয়ার সাঈদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগের ডিরেক্টর মাশরুর রহিম সাদাত এবং অপারেশনস ডিরেক্টর মোহাম্মদ সাজেদুল করিম চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twenty − ten =