জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সংকট ঘনীভূত করবে

গ্যাস বিদ্যুৎ সঙ্কটের অতিমারী সময়ে অনেকটা অপারগ হয়েই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ আর এর প্রতিক্রিয়ায় চক্রাকারে বেড়ে গেছে পরিবহন ব্যয়।  ক্ষেত্র বিশেষে শতকরা বৃদ্ধি  ১৫-২০  ভাগ। প্রতিক্রিয়ায় নিত্যপণ্যের বাজরেও আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে মূল্য। চট্টগ্রাম বন্দর কনটেইনার টার্মিনাল থেকে পণ্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় শিল্পগুলো পড়েছে নতুন সংকটে।  এমনিতেই গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটে নাজুক শিল্পগুলো, এর উপরে তরল জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সঙ্কট ঘনীভূত করেছে।

মধ্যপ্রাচ্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সঙ্কট চলছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহন প্রায় স্থগিত। এরই মাঝে ইয়ামেনী হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘর্ষে বাবেল আল ম্যান্ড বন্ধ হওয়ার উপক্রম সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তরতরিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের মূল্য। নিতান্ত নিরুপায় হয়েই সরকার বাড়িয়েছে জ্বালানি তেলের মূল্য। সবাই জানে বাংলাদশের গ্যাস বিদ্যুৎ অথবা জ্বালানি তেলের বাজার মূল্য অথবা এই মূল্য বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় বাজার মূল্য বৃদ্ধির উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত শিথিল। ফলে মূল্য বৃদ্ধির নির্মম শিকার হতে হয় সব শ্রেণীর ভোক্তাদের।

সরকার বলছে প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে জ্বালানি মূল্য কম থাকলে পাচারের সম্ভাবনা প্রকট হয়। এই যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য সন্দেহ আছে। সবাই জানে গ্যাস বিদ্যুত  সংকট থাকায় ডিজেল ব্যবহার করে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে শিল্পগুলো। এখন ডিজেল মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বাড়বে শিল্পগুলোর। আন্তর্জাতিক বাজরে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো।

গ্যাস পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও উচ্চ মূল্যে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হওয়ায় সঙ্কটে জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শিল্পগুলোকে দ্রুত রুফটপ সোলারের সঙ্গে ব্যাটারি সংযুক্ত করে কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।

এমনিতেই সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হয়েছে। এখন পরিবহন মূল্য বৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে আরেক দফা মূল্য বৃদ্ধি পাবে। সরকারকে সুচিন্তিতভাবে কিছু খাতে ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। বাজারে নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 × 3 =