ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন, স্পর্শ করল ৩৭ ম্যাচের অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ড

ইউরো চ্যাম্পিয়নের দাপট এবারও অক্ষুণ্ন থাকল। কৌশল, শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের প্রদর্শনীতে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। এই জয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে ফিরল লা রোহা। একই সঙ্গে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ইতালির বিশ্বরেকর্ডও স্পর্শ করেছে তারা।

ডালাসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে শুরু থেকেই বলের দখল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং পরিকল্পিত আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসেকে নিয়ে গড়া ফ্রান্সের আক্রমণভাগ পুরো ম্যাচেই ছিল নিষ্প্রভ।

প্রথম গোল আসে ২২ মিনিটে। বক্সের ভেতরে লামিন ইয়ামালকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় স্পেন। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। স্পট-কিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল।

এই গোলের মাধ্যমে এবারের বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে। ফলে ১৯৮৬ সালে এমিলিও বুত্রাগেনিও এবং ২০১০ সালে ডেভিড ভিয়ার পর এক বিশ্বকাপে পাঁচ গোল করা তৃতীয় স্প্যানিশ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান ওইয়ারসাবাল।

গোলের পরও তাড়াহুড়া না করে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে থাকে স্পেন। বলের দখল ধরে রেখে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা। প্রথমার্ধের শেষদিকে গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ানের ভুল থেকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি স্প্যানিশরা।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে একাধিক পরিবর্তন আনেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম। তবে তাতেও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। বরং ৫৮ মিনিটে দ্রুতগতির এক আক্রমণ থেকে দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বক্সে ঢুকে গোল করেন পেদ্রো পোরো।

বিশ্বকাপে এটি ছিল পোরোর দ্বিতীয় গোল। এর মাধ্যমে কিংবদন্তি ফার্নান্দো হিয়েরোর পর এক বিশ্বকাপে একাধিক গোল করা দ্বিতীয় স্প্যানিশ ডিফেন্ডার হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।

দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে খেলতে থাকে স্পেন। লামিন ইয়ামালের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। অন্যদিকে এমবাপ্পের কয়েকটি প্রচেষ্টা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেন গোলরক্ষক উনাই সিমন এবং স্প্যানিশ রক্ষণভাগ।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব শিরোপা জয়ের হাতছানি পাচ্ছে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে স্পেন আরও একটি অনন্য কীর্তি গড়েছে। ইতালির ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেছে তারা। পাশাপাশি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা আটটি নকআউট ম্যাচে জয়ী প্রথম ইউরোপীয় দল হিসেবেও ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

এখন বিশ্বকাপ ট্রফি জিততে স্পেনের সামনে আর মাত্র একটি বাধা। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × 1 =