ফ্রান্সের গতির জবাব নিজেদের ছন্দে দিতে চায় স্পেন

বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রতিপক্ষের গতি ও আক্রমণভাগ নিয়ে সতর্ক স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে ফরাসিদের মোকাবিলায় নিজেদের খেলার দর্শন থেকে সরে আসতে নারাজ তিনি। স্পেন কোচের বিশ্বাস, নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দের ফুটবল খেলতে পারলেই টানা তৃতীয়বারের মতো ফ্রান্সকে হারানো সম্ভব।

আগামী ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাসে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসের নেতৃত্বাধীন ফ্রান্সের সামনে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন।

এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত গতিময় ফুটবল উপহার দিয়ে অপরাজিত থেকে সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয় পাওয়ার পাশাপাশি নকআউটের প্রতিটি ম্যাচই তারা নির্ধারিত সময়েই জিতেছে। ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে তাই এবারও শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, স্পেনের শুরুটা প্রত্যাশামতো না হলেও সময়ের সঙ্গে নিজেদের ছন্দ ফিরে পেয়েছে দলটি। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করলেও পরে সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। নকআউট পর্বেও এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে খেলতে হয়নি স্প্যানিশদের।

গত তিন বছরে ফ্রান্সের বিপক্ষে দুইবার মুখোমুখি হয়ে দুইবারই জয় পেয়েছে স্পেন। ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল এবং ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ফরাসিদের হারিয়েছিল দে লা ফুয়েন্তের দল।

তবে অতীতের সাফল্য বর্তমান ম্যাচে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিলেও ফ্রান্সকে আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত দল হিসেবে দেখছেন স্পেন কোচ।

দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে ওঠা মানেই আপনি শিরোপার দাবিদার। ফ্রান্স সবসময়ই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। দুই বছর আগের দলের সঙ্গে বর্তমান ফ্রান্সের অনেক পার্থক্য রয়েছে। খেলোয়াড়দের একটি অংশ একই থাকলেও তাদের খেলার ধরন ও কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। একইভাবে আমাদের দলও আরও উন্নত হয়েছে।”

তিনি মনে করেন, সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই ফুটবল দর্শনের দল। ফ্রান্স যেখানে গতিনির্ভর আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে, সেখানে স্পেনের শক্তি বল দখল, পাসিং এবং ছন্দময় দলীয় ফুটবল।

স্পেন কোচ বলেন, “ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের গতি। তাই আমাদের নিজেদের খেলার ধরন বজায় রাখতে হবে। আমরা জানি আমাদের কিছু দুর্বলতা রয়েছে, বিশেষ করে কখনও কখনও রক্ষণভাগ অরক্ষিত হয়ে পড়ে। তবে দলগত ভারসাম্য ধরে রাখতে পারলে আমরা নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারব।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো নির্দিষ্ট ছকে আটকে থাকা দল নই। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে কৌশলে পরিবর্তন আনব। তবে নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলেই আমরা ফ্রান্সের বিপক্ষে সর্বশেষ দুটি ম্যাচ জিতেছি। এবারও সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামব।”

বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালটি তাই শুধু দুই পরাশক্তির লড়াই নয়, বরং গতিনির্ভর ফুটবলের সঙ্গে বল দখলভিত্তিক ছন্দময় ফুটবলের এক কৌশলগত দ্বৈরথও হতে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eighteen − two =