
সম্প্রতি ৪৪ দিন বাংলাদেশ সফরকালে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস এবং বিজিএলসিএলের বাস্তবায়নাধীন গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পগুলো পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং পরবর্তীতে বাপেক্স কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড় আলোচনায় ভরসা পেয়েছি কিছু কিছু ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হলে ২০৩০র মধ্যে গ্যাস পরিস্থিতি পরিবর্তিত হবে. তিতাস ৩১ কূপ দেশের গ্যাস পরিস্থিতি আমূল পরিবর্তন করে দিতে পারে। গভীর স্তরে খননরত এই কূপে মিলতে পারে বিশাল গ্যাস ভান্ডার। সফল হলে এখানে দ্রুত ২-৩ টি উন্নয়ন কূপ খনন করা হলে এখন থেকেই ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলবে। একই ভাবে বাখরাবাদ এবং শ্রীকাইল গ্যাস ক্ষেত্রে গভীর স্তরে গ্যাস প্রাপ্তির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
উন্নত প্রযুক্তি ( হাইড্রো ফ্র্যাকিং ) ব্যবহার করে সিলেট কূপ ১০ এবং ১০X অবিলম্বে উৎপাদনে আনা হলে আরো অন্তত ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। ১০X কূপ খনন কালে তেলের সন্ধান মিলেছে। দ্রুত একটি তেল কূপ খননের পরামর্শ দিবো। তবে কূপ ১০ এবং ১০X কূপ দুটির পাশে গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট স্থাপন করে বিশাল মাত্রার কনডেনসেট পাওয়া যাবে। বর্তমানে নির্মিত গ্যাস গ্যাদারিং লাইন ব্যবহার করা কারিগরি নিরাপত্তার কারণে গ্রহণযোগ্য হবে না.
গ্যাস কূপ খনন প্রক্রিয়া থেকে সুফল পেতে হলে গ্যাস উৎপাদন কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যোগ্য পেশাদারদের পদায়ন করা অত্যাবশ্যক। অচিরেই আট জন উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তা অবসর নিবে। দেশের স্বার্থে যেন যোগ্য কারিগরি কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়.
গ্যাস কূপ খনন কার্যক্রম সফল হলে বহু মূল্যে এলএনজি আমদানি প্রয়োজন হবে না. আমি একই সঙ্গে সমগ্র স্থলভাগকে নিবিড় ২D এবং পরবর্তীতে ৩D সিসমিক সার্ভের আওতায় আনার পরামর্শ দিচ্ছি।
জানিনা সাগরে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আহ্বানকৃত পিএসসি বিডিং কতটা সফল হবে. যদি আশানুরূপ সারা না পাওয়া যায় তার ডে দায়িত্ব সরকারগুলোর উপর বর্তাবে। বাংলাদেশে বিদ্যমান পরিস্থিতিটি শীর্ষ স্থানীয় তেল কোম্পানিগুলোকে ঝুঁকি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী করছে না. এই ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর। লন্ডন , নিউ ইয়র্কে পরিকল্পিত রোড শো কাজে দিবে বলে মনে হয় না. আমি নিজেও বেশ কয়েকটি শীর্ষ স্থানীয় তেল কোম্পানিকে অনুরোধ করছি.দেখা যাক বরফ গলে কিনা?