রুচিসম্মত বাথরুম

ময়ূরাক্ষী সেন

বাড়ি নিজের কিংবা ভাড়া হোক সবাই চায় তা যেন সুন্দর সাজানো গোছানো হয়। শোবার ঘর থেকে শুরু করে রান্নাঘর সবকিছু নিয়েই মানুষের থাকে নানারকম আয়োজন। বসার ঘরে কোন সোফা সেট ভালো লাগবে, ডাইনিং রুমে কেমন চেয়ার রাখা হবে তা নিয়ে ভাবনার শেষ নেই। কিন্তু বাথরুম নিয়ে আলাদা করে সবাই তেমন ভাবে না। কিন্তু আপনার বাড়ি যত সুন্দর করেই সাজিয়ে রাখেন বা ডিজাইন করেন না কেন বাথরুম যদি রুচিসম্মত না হয় তা হলে বাড়িটি পরিপূর্ণতা পাবে না। কেমন করে বাথরুমকে সাজিয়ে তুলতে পারেন তা নিয়ে আমাদের আয়োজন।

ঘরের অন্যান্য স্থানের তুলনায় পরিকল্পনা করে বাথরুম ডিজাইন করা কঠিন। কারণ বাথরুম একটি সংবেদনশীল স্থান। এ ছাড়া বাথরুম আপনার রুচির পরিচয় বহন করবে। অনেক সময় ভুলের কারণে বাথরুমে দুর্ঘটনা অবধি ঘটতে পারে। তাই বাড়ি তৈরি করার সময় বাথরুমের কোন স্থানে কোন সামগ্রী বসান হবে তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করুন। সাধারণত বাথরুমের জন্য অল্প স্থান নির্দিষ্ট করা হয়ে থাকে। ফলে বাথরুম সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা বেশ চ্যালেঞ্জের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাথরুম কিছুটা লম্বাটে কিংবা চারকোনা করা হয়। আপনার বাড়ির ধরন বুঝে বাথরুমের জায়গা সুনির্দিষ্ট করতে হবে। বাথরুম খুব বেশি বড় কিংবা খুব বেশি ছোট না করে মাঝারি আকৃতির করার চেষ্টা করুন। তবে বাথটাব বসাতে চাইলে বাথরুমের আকৃতি অবশ্যই বড় হতে হবে। কিংবা যদি ওয়াশিং মেশিন রাখার পরিকল্পনা করেন সে ক্ষেত্রেও বাথরুম বড় হওয়া প্রয়োজন।

বাথরুম বানানোর ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম চিন্তা করতে হবে টাইলস ও কমোড নিয়ে। কারণ অন্যান্য জিনিস বদলে ফেললেও এ দুটি জিনিস বদলানো বেশ ঝামেলার। তাই টাইলস ও কমোড নির্বাচন করার আগে অনেক বেশি সচেতন থাকতে হবে। কমোড ও টাইলস ভালো মানের কেনা উচিত। এতে সহজে কমোড ও টাইলসের রঙ বিবর্ণ হয়ে যাবে না কিংবা পুরানো দেখাবে না। বাথরুমে কি ধরনের টাইলস ব্যবহার করবেন তা জানতে আপনাকে অভিজ্ঞ হতে হবে কিংবা অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিতে হবে। বাজারে এখন নকল কিংবা খারাপ মানের টাইলস বা মার্বেল পাথর বিক্রি হয়। ফ্লোর ও দেয়ালে অ্যান্টি-স্কিড সিরামিক টাইলস ব্যবহার করলে সহজে পরিষ্কার করা যাবে, পিচ্ছিলও হবে না। কিছু টাইলস দ্রুত পিচ্ছিল হয়ে যায় ফলে বাথরুমে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। টাইলস লাগানোর সময় অবশ্যই এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

বাথরুমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে বেসিন ও আয়না। কমোডের মতো বেসিনও ঝামেলা ছাড়া বদলানো সম্ভব না। তাই বেসিনও বসাতে হবে ভালো মানের। তবে বেসিনের উপর এমন আয়না লাগাতে পারেন যা চাইলেই খুলে ফেলা যায়। কিছুদিন পর যদি আপনার বাথরুমের আয়না পরিবর্তন করেন তাহলে বাথরুমে কিছুটা বৈচিত্র্য আসবে। চাইলে সাদা বা বিভিন্ন নকশার আয়না বেসিনের উপর লাগাতে পারেন। তবে কাঠ কিংবা বেতের আয়না বাথরুমে না বসান ভালো কারণ পানি লেগে দ্রুত আয়না নষ্ট হয়ে যাবে। বাথরুম ছোট হলে বড় আয়না বসান, এতে বাথরুম খানিকটা বড় মনে হবে।

এরপর ভাবুন বাথরুমের রঙ কেমন হবে! সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা সারাদিন ব্যস্ততার পরে যখন বাথরুমে শাওয়ার নিতে যাবেন তখন যাতে মন চনমনে হয় এমন রঙ নির্বাচন করুন। তবে বাথরুমের ক্ষেত্রে সাদা, আকাশি, হালকা গোলাপির মতো রঙ আপনার ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করবে। যদি বাথরুমে রঙ না করতে চান তবে দেয়াল পেপার লাগিয়ে দিতে পারেন।  বাজারে এখন বিভিন্ন প্রিন্টের দেয়াল পেপার পাওয়া যায় যা আপনার বাথরুমের শোভা আরও বাড়িয়ে দিবে। এটির সুবিধা হচ্ছে বাথরুমে কিছুটা পরিবর্তন আনতে চাইলে দেয়াল পেপার বদলে ফেলা যায়। অনেকে পুরো বাথরুমে টাইলস লাগান। সে ক্ষেত্রে বাথরুমের সিলিং সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে পারেন।

তৈরির সময় খেয়াল রাখবেন যাতে বাথরুমের দরজা খুলে কমোড চোখে না পড়ে। দরজার পাশে বেসিন ও আয়না এবং খানিকটা দূরে কমোড বসান। বেসিন, কমোড,  টাইলস ও বাথটাবের রঙে সামঞ্জস্য রাখুন। প্রতিটি ভিন্ন রঙের হলে বাথরুম খানিকটা এলোমেলো মনে হবে। রঙের মেলবন্ধনে বাথরুম রুচিসম্মত হয়ে উঠবে। বাথরুমে কেবিনেট তৈরির কথা ভুলবেন না। বাথরুমের ওপরে কিংবা বেসিনের পাশে কয়েকটি কেবিনেট তৈরি করে নিলে  ছোট-বড় যে কোন জিনিস সেখানে রেখে দেওয়া যাবে। সাবান, শ্যাম্পু ইত্যাদি রাখার জন্য বেসিনের পাশে কিংবা আয়নার নিচে তাক তৈরি করে নিন। অনেকে বাথরুমে সঠিক আলোর ব্যবস্থা রাখে না। কিন্তু আলোকসজ্জা আমাদের মুডের উপর ভীষণভাবে প্রভাব ফেলে। বাথরুমে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করুন। তবে বাথরুমে বাল্ব না লাগানোই ভালো। কারণ বাল্বে পানি লাগলে তা অনেক সময় ফেটে যেতে পারে। বাতির সুইচ বাথরুমের বাইরে রাখার চেষ্টা করুন। সুইচের মধ্যে পানি ঢুকলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

বেসিন এবং কমোড একপাশে রেখে শাওয়ার নেওয়ার স্থান দূরে রাখুন, এতে পুরো বাথরুম ভিজে থাকবে না। গোসলের পানি যাতে পুরো বাথরুমে ছড়িয়ে না পড়ে এজন্য সিমেন্ট দিয়ে ফ্লোর গার্ড করে নিন। বাথরুমে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে শাওয়ার এরিয়া থাই গ্লাস দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন। এতে বাথরুমের বাকি অংশ শুকনা থাকবে। সাবান শ্যাম্পু ব্রাশ টুথপেস্ট রাখার পাত্রের মধ্যেও বৈচিত্র্য নিয়ে আসুন। বাথরুমের প্রতিটি জিনিস যাতে তার নির্দিষ্ট স্থানে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। জিনিস নির্দিষ্ট স্থানে না থাকলে বাথরুম যত সুন্দর করে ডিজাইন করা হোক না কেন তা এলোমেলো বিশৃঙ্খল লাগবে। কয়েকদিন পর পর বাথরুম পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করুন। বাথরুমে সুগন্ধি রাখা যেতে পারে, দুর্গন্ধ থাকলে বাথরুমে প্রবেশ করার পর বিরক্তি লাগবে। গিজার থাকলে বিদ্যুতের সংযোগ এমন জায়গায় রাখুন যেখানে সহজে পানি পৌঁছবে না। বিদ্যুৎ সংযোগে পানি লাগলে তা দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বেসিন কিংবা টয়লেট এরিয়ার উপর গিজার বসান।

ছোট শোপিস দিয়ে বাথরুম নান্দনিক ভাবে সাজিয়ে তুলতে পারেন। এক্ষেত্রে উপযুক্ত হতে পারে মাটির শোপিস। কারণ মাটি পানিতে নষ্ট হয় না। বেসিন এরিয়ার পাশে জায়গা থাকলে কিংবা কেবিনেটে পছন্দের শোপিস দিয়ে সাজিয়ে দিতে পারেন। এছাড়া মানিপ্লান্ট কিংবা ক্যাকটাস জাতীয় গাছও বাথরুমে রাখতে পারেন। কারণ এ জাতীয় গাছ যে কোনো পরিবেশেই বেঁচে থাকতে পারে। এতে বাথরুম যেমন প্রকৃতির ছোঁয়া পাবে তেমনি আপনার ক্লান্তিও দূর হবে।

লেখাটির পিডিএফ দেখতে চাইলে ক্লিক করুন: ইন্টিরিয়র

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − thirteen =