লন্ডন-নিউ ইয়র্ক-সিঙ্গাপুরে রোড শো থেকে বাড়তি কতটুকু অর্জন হবে

বাংলাদেশ জ্বালানি সেক্টরের পলিসি মেকার্সরা সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে উৎপাদন বন্টন চুক্তির অধীনে গ্যাস তেল অনুসন্ধানে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য লন্ডন-নিউ ইয়র্ক-সিঙ্গাপুরে রোড শো আয়োজন করে। এমনিতেই দেশে বিদ্যমান বর্তমান পরিস্থিতি (আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম্য) এবং উৎপাদন বন্টন চুক্তি বিষয়ক অতীতের নানা বিতর্ক, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার বিবেচনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ আশাব্যাঞ্জক নয়। পরিবর্তিত মডেল উৎপাদন বন্টন চুক্তিতে যথেষ্ঠ প্রণোদনা থাকলেও আনুষঙ্গিক নানা কারণে বাংলাদেশের আহ্বানকৃত পিএসসি কতটা সাড়া মিলবে নিশ্চয়তা নয়।

শীর্ষ স্থানীয় বিদেশী তেল কোম্পানিগুলোর কাছে বাংলাদেশের সাগর সম্পদ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য শুধু নয় বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিষয়ে সবকিছু জানা আছে। এমতাবস্তায় বিদেশে রোড শো না করে দেশে শীর্ষ স্থানীয় তেল কোম্পানিগুলোকে দেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা অধিকতর কার্যকরী হতো বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

স্মরণীয় যে একই সময়ে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে সাগরে অনুসন্ধানের জন্য দরপ্রস্তাব আহবান করা হয়েছে। এই সমস্ত দেশে অধিকতর বিনিয়োগ‍বান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও  ভালো। এই পরিস্থিতিতে তেল কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ঝুঁকি বিনিয়োগে কতটা আগ্রহী হবে সন্দেহ আছে।

জানিনা নভেম্বর ২০২৬ প্রস্তাব পেশ করার শেষ সময়ে কি ধরনের সাড়া মিলবে। যদি আদৌ আশানরুপ সাড়া না পরে তাহলে বাংলাদেশ নতুন গ্যাস প্রাপ্তির মিশন দারুন বাধাগ্রস্ত হবে। প্রস্তুত থাকতে হবে একটি বা দুটি প্রস্তাব পেলেও যেন দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে পিএসসি চুক্তি সম্পাদন করা যায়। স্মরণে রাখতে হবে সাগর সম্পদ আবিষ্কার করে সেখান থেকে সুফল পেতে ৮-১০ বছর সময় লাগতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 11 =