শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সাফ ফাইনালে বাংলার মেয়েরা

সালেক সুফী

উপর্যুপরি তৃতীয় সাফ ফুটবল জয়ের মিশনে বাংলার মেয়েরা ভারতের গোয়ায় প্রথম দুই ম্যাচে ছিল ছন্দহীন। বিশেষ করে ভারতের কাছে (০-৩) বিপর্যস্ত হওয়ার পর টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা জেগেছিলো। তদুপরি নেপালের সঙ্গে সেমিফাইনালের আগে দলের অপরিহার্য খেলোয়াড় শিউলি আজিমের মায়ের মৃত্যু সংবাদ মুষড়ে দিয়েছিলো দলকে। সবাই চোয়াল বদ্ধ প্রতিজ্ঞা করেছিল সতীর্থ শিউলির জন্য হলেও ম্যাচ জয় করবে বাংলাদেশ। নিজেদের ফিরে পাওয়া বাংলাদেশ ম্যাচের অধিকাংশ সময় কোনঠাসা থেকেও ২-১ গোলে ম্যাচ জয় করে পৌঁছে গেছে ফাইনালে। আগামী শুক্রবার ৫ জুন আবারো দেখা যাবে বাংলাদেশ ভারত ফুটবল যুদ্ধ।

ম্যাচের শুরু থেকেই মুহুর্মুহু আক্রমণে কোনঠাসা করে ফেলেছিলো হিমালয় কন্যা নেপালের মেয়েরা বাংলাদেশকে। প্রচন্ড চাপে পড়েছিল বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ম্যাচের ২৩ মিনিটে এগিয়ে গেল নেপাল। কর্নার থেকে গোল করলো নেপালের গীতা রানা।কর্নারটি করেছিলেন দীপা শাহি। তাঁর করা ক্রসে পায়ের টোকা দিয়ে বলটিকে জালের ভেতরে পাঠিয়ে দেন গীতা। ছন্দ হারানো বাংলাদেশ বল পায়ে রাখতেই পারছিলো না। বিশেষ করে বাংলাদেশের তুরুপের তাস ঋতুকে নিষ্প্রভ মনে হচ্ছিলো।

কোথাও যেন খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না ঋতুপর্ণাকে! ধারাভাষ্য কক্ষেও আলোচনা হচ্ছিল, ঠিক কতবার ঋতুপর্ণা বলে স্পর্শ করতে পেরেছেন। এমন সময়েও দারুণ এক গোল করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরালেন ঋতুপর্ণা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে করেছেন অলিম্পিক গোল, মানে সরাসরি কর্নার থেকে গোল করেছেন। অপূর্ব দক্ষতায়  দর্শনীয় গোল করে দলকে জাগিয়ে তুললো বাংলার পোস্টার গার্ল। এই গোলের পর মাঠে উজ্জীবিত বাংলাদেশকেই দেখা যাচ্ছে। প্রথমার্ধ শেষে ম্যাচ এখন ১–১ সমতায়।

দ্বিতীয়ার্ধ জুড়েও নেপালের দাপট ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে বেশ কিছু গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেও গোল পাচ্ছিলো না। অবশেষে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের অন্তিম লগ্নে শামসুন্নাহারের বিচক্ষণ নিচু ক্রস থেকে সাগরিকা গোল করে এনে দিলো স্বস্তির জয় (২-১)। স্বপ্ন জয়ের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলো। সামনে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। ভুটানের বিরুদ্ধে কষ্টের (১-০) জয়ে ভারত পৌঁছেছে ফাইনালে। নিজেদের ফিরে পাওয়া বাংলাদেশ নিজেদের সব কিছু উজাড় করে খেললে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে অনন্য মাইল ফলক স্থাপন করবে। তবে বাংলাদেশকে রক্ষণভাগকে আঁটোসাঁটো রেখে আক্রমণ সাজাতে হবে প্রাপ্ত সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে।

বাংলাদেশ: মিলি আক্তার (গোলরক্ষক), আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, মৌমিতা খাতুন, সুরভী আক্তার আফরিন, শামসুন্নাহার সিনিয়র, মারিয়া মান্দা, সুরভী আকন্দ প্রীতি, উমেলাহ মারমা, ঋতুপর্ণা চাকমা ও আনিকা রানিয়া সিদ্দিকা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

15 + 10 =