সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের অপেক্ষায় কলম্বিয়া, আত্মবিশ্বাসী কোচ লরেন্সো

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত কলম্বিয়া। দলের কৌশলগত নমনীয়তা এবং বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাই কলম্বিয়ার অন্যতম বড় শক্তি বলে মনে করেন প্রধান কোচ নেস্তর লরেন্সো।

বাংলাদেশ সময় ৮ জুলাই ভোর ২টায় কানাডার ভ্যানকুভারে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এই ম্যাচ। গ্রুপ পর্বে কলম্বিয়া তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটি খেলেছে মেক্সিকোতে এবং পরবর্তী দুটি ম্যাচ খেলেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এবার নকআউট পর্বে তাদের খেলতে হবে বিশ্বকাপের আরেক সহ-আয়োজক দেশ কানাডায়।

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে কলম্বিয়া, যা তাদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তারই প্রমাণ। পাশাপাশি গত কয়েকটি ম্যাচে বিভিন্ন পজিশনে খেলোয়াড়দের ব্যবহার করে দলের কৌশলগত বৈচিত্র্যও পরীক্ষা করে দেখেছেন কোচ লরেন্সো। তার বিশ্বাস, এই বহুমুখিতা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।

ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে লরেন্সো বলেন, তার দলে এমন অনেক খেলোয়াড় রয়েছেন, যারা ম্যাচের পরিস্থিতি দ্রুত বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের ভূমিকা পরিবর্তন করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, “আমাদের এমন খেলোয়াড় রয়েছে, যারা খেলাটি ভালোভাবে বোঝে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারে। শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি তাদের কৌশলগত বোধও অত্যন্ত উন্নত। এই বহুমুখী দক্ষতাই আমাদের অন্যতম শক্তি।”

তবে সুইজারল্যান্ডকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না কলম্বিয়ার এই কোচ। তার মতে, ইউরোপের দলটি অত্যন্ত সংগঠিত এবং অভিজ্ঞ।

লরেন্সো বলেন, “সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আমাদের সর্বোচ্চ কৌশলগত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। তারা আক্রমণ ও রক্ষণ—উভয় ক্ষেত্রেই ভারসাম্যপূর্ণ দল। তাদের দলে বিশ্বকাপ-অভিজ্ঞ অনেক ফুটবলার রয়েছে, যারা ইউরোপের শীর্ষ লিগে নিয়মিত খেলছে। ফলে এটি নিঃসন্দেহে কঠিন একটি ম্যাচ হবে।”

তিনটি ভিন্ন দেশে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ায় দীর্ঘ ভ্রমণ, সময়ের পার্থক্য এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে দলগুলো। যদিও বিষয়টিকে আদর্শ মনে করছেন না লরেন্সো, তবুও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াকেই সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন তিনি।

কলম্বিয়া কোচ বলেন, “এত বেশি ভ্রমণ কোনো দলের জন্যই সহজ নয়। সময় অঞ্চল, আবহাওয়া ও পরিবেশ প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। কখনও উচ্চভূমিতে, কখনও আর্দ্র বা শুষ্ক আবহাওয়ায় খেলতে হচ্ছে। তবে এসব বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের প্রতিদিন নতুন করে মানিয়ে নিতে হবে এবং মাঠে সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিতে হবে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four × 4 =