সালেক সুফী
ইংল্যান্ড ৪ : ক্রোয়েশিয়া ২
ফিফা র্যাঙ্কিং: ইংল্যান্ড (৪), ক্রোয়েশিয়া (১১)
ফেভারিটের মতোই শুরু ইংল্যান্ডের ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার ইংল্যান্ড প্রত্যাশামতো প্রাণবন্ত ফুটবল উপহার দিয়ে শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে। ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের নেতৃত্বে থাকা হ্যারি কেন জোড়া গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আরলিং হল্যান্ডের পর গোল করার সহজাত দক্ষতায় হ্যারি কেনও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলো ছড়াতে না পারা বড় তারকাদের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
২০১৮ সালের প্রতিশোধ নিল ইংল্যান্ড
২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে বিদায় নিতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। এবার সেই স্মৃতি পেছনে ফেলে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে তারা।
যদিও প্রথমার্ধে ক্রোয়েশিয়া হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে। দুইবার পিছিয়ে পড়েও বিরতির আগে ২-২ সমতায় ফিরেছিল দলটি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের গতি, সংগঠিত আক্রমণ ও কৌশলের কাছে আর টিকতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া।

পেনাল্টি থেকে নতুন রেকর্ড গড়লেন কেন
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ১২ মিনিটে ননি মাদুয়েকেকে ফাউল করেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদরিচ। প্রথমবার নেওয়া হ্যারি কেনের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ।
তবে পুনরায় নেওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি কেন। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে (টাইব্রেকার বাদে) সর্বোচ্চ সংখ্যক পেনাল্টি গোলের রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি।
প্রথমার্ধে পাল্টাপাল্টি আঘাত
এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় ক্রোয়েশিয়া। ৩৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান মার্তিন বাতুরিনা (১-১)।
তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ইংল্যান্ডকে। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে হেড করে আবারও দলকে এগিয়ে দেন হ্যারি কেন (২-১)।
বিরতির আগেই যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে পেতার মুসা গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে ২-২ সমতায় ফেরান।
দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের একচ্ছত্র আধিপত্য
বিরতির পর ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। অনেক বেশি গোছানো ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে ইংল্যান্ড।
৪৭ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে দৌড়ে বক্সে ঢুকে জুড বেলিংহাম গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
এই গোলের পর থেকেই ধীরে ধীরে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ক্রোয়েশিয়া। ইংল্যান্ডের লাগাতার আক্রমণে রক্ষণভাগ চাপে পড়ে যায়।
৮৫ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় মার্কাস রাশফোর্ড গোল করে ৪-২ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
গ্রুপ পর্বে এগিয়ে ইংল্যান্ড
এল গ্রুপের অন্য দুই দল ঘানা ও পানামাকে বিবেচনায় নিলে, ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া—দুই দলই টুর্নামেন্টের গভীরে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে। তবে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ড স্পষ্টভাবেই নিজেদের শিরোপাপ্রত্যাশী দলের মর্যাদা তুলে ধরেছে।
ইংল্যান্ড একাদশ: জর্ডান পিকফোর্ড, রিস জেমস, জন স্টোনস, জ্যারেল কোয়ানসা, নিকো ও’রাইলি, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, ডেকলান রাইস, ননি মাদুয়েকে, জুড বেলিংহাম, অ্যান্থনি গর্ডন, হ্যারি কেন।
ক্রোয়েশিয়া একাদশ: ডমিনিক লিভাকোভিচ, ইয়োশকো গভার্দিওল, লুকা ভুসকোভিচ, ইয়োসিপ শুতালো, ইভান পেরিসিচ, পেতার সুচিচ, লুকা মদরিচ, ইয়োসিপ স্তানিসিচ, মার্তিন বাতুরিনা, মারিও পাসালিচ, পেতার মুসা।