৯/১১-এর ২৫ বছর: নিহতদের স্মরণে আমেরিকা

শিব্বীর আহমেদ, গ্রাউন্ড জিরো, নিউইয়র্ক

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্মরণসভা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভানিয়ায় হামলার তিনটি প্রধান স্থানে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও পালিত হয়েছে দিনটি। একই দিনে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সদ্য অবমুক্ত করা গোয়েন্দা নথি প্রকাশ পাওয়ায় হামলার আগে ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদার তৎপরতা সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তারা কী জানতেন, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০০১ সালের ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে সমন্বিত হামলা চালায়। দুটি বিমান নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। তৃতীয় বিমানটি ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে অবস্থিত পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। চতুর্থ বিমান ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩ পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে বিধ্বস্ত হয়। যাত্রীরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করার পরই এটি মাটিতে পড়ে।

গ্রাউন্ড জিরোতে স্বজনদের অশ্রুসিক্ত স্মরণ

নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের গ্রাউন্ড জিরোতে নিহতদের স্বজনেরা শুক্রবারের মূল স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে নিহতদের নাম পাঠ করেন তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। স্থানীয় সময় ২০০১ সালের এই সময়েই আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১ বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উত্তর টাওয়ারে আঘাত হেনেছিল। নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা ও জো বাইডেন উপস্থিত ছিলেন। নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে বর্তমান ও সাবেক জাতীয় নেতাদের এই উপস্থিতি ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

স্মরণ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ টাওয়ারে হামলা, পেন্টাগনে বিমান আঘাত এবং ফ্লাইট ৯৩ বিধ্বস্ত হওয়ার সময়গুলোতেও নীরবতা পালন করা হয়। এ বছর প্রথমবারের মতো বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র এলাকায় বিষাক্ত ধূলিকণা ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থের সংস্পর্শে এসে পরবর্তী সময়ে যারা অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন, তাদের স্মরণেও একটি আলাদা নীরবতা পালন করা হয়েছে। ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম জানিয়েছে, বার্ষিক স্মরণ অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল নিহতদের জীবন ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের আকাশে ঐতিহ্যবাহী ‘ট্রিবিউট ইন লাইট’ কর্মসূচির মাধ্যমে দুটি আলোকরশ্মি জ্বালানোরও আয়োজন করা হয়েছে।

পেন্টাগনে ট্রাম্পের স্মরণ অনুষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে পেন্টাগনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকী স্মরণ করেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ছিনতাই করা আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৭৭ পেন্টাগনে আঘাত হানে। এতে বিমানের যাত্রী ও পেন্টাগনে থাকা ১৮৪ জন নিহত হন।

ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সামরিক ও সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পেন্টাগনের অনুষ্ঠানে হামলায় নিহত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিমানের যাত্রীদের স্মরণ করা হয়। বক্তব্যে ট্রাম্প ও হেগসেথ ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার সঙ্গে বর্তমান মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশের সামরিক ভূমিকার বিষয়ও তুলে ধরেন। ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন কাউন্টিসহ অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকাতেও স্থানীয়ভাবে নিহত, উদ্ধারকর্মী ও হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

পেনসিলভানিয়ায় ফ্লাইট ৯৩এর ৪০ যাত্রীক্রুর স্মরণ

পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে ফ্লাইট ৯৩ ন্যাশনাল মেমোরিয়ালে শুক্রবার নিহত ৪০ যাত্রী ও ক্রু সদস্যকে স্মরণ করা হয়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ছিনতাইয়ের পর যাত্রীরা টেলিফোনে অন্য বিমানগুলো বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ও পেন্টাগনে আঘাত হানার খবর জানতে পারেন। এরপর তারা ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিমানটি শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। অনুষ্ঠানে নিহত যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের নাম পাঠ করা হয় এবং তাদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রীদের প্রতিরোধ ৯/১১ হামলার ইতিহাসে সাধারণ মানুষের সাহসিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে স্মরণ করা হয়।

সিআইএর ৭১টি গোয়েন্দা নথি প্রকাশ

৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে ওয়াশিংটনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএর সদ্য অবমুক্ত করা ৭১টি গোয়েন্দা নথি। প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে ৭০টি হামলার আগে তৈরি এবং একটি ২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের। এসব নথি প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ বুশসহ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া হয়েছিল।

নথিগুলো থেকে দেখা যায়, হামলার বহু বছর আগেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদার কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছিল। ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারির একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিন লাদেনের রাসায়নিক, জৈবিক ও পারমাণবিক উপাদান সংগ্রহের আগ্রহের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। অন্যান্য প্রতিবেদনে আল-কায়েদার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, আফগানিস্তানে তাদের কার্যক্রম এবং বিন লাদেনকে হস্তান্তর করতে তালেবানের অনীহার বিষয় উঠে আসে।

১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিস্ফোরকবোঝাই বিমান ব্যবহার করে আল-কায়েদার সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করার কথাও বলা হয়েছিল। পরবর্তী কিছু প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাই এবং বিভিন্ন স্থাপনায় নজরদারির বিষয় উঠে আসে।

২০০১ সালের আগস্টের বহুল আলোচিত প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফে ‘বিন লাদেন ডিটারমাইন্ড টু স্ট্রাইক ইন ইউএস’ শিরোনামে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে দেশটির অভ্যন্তরে বিমান ছিনতাইসহ সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সন্দেহজনক তৎপরতার কথা উল্লেখ ছিল।

তবে নতুন করে প্রকাশিত নথিগুলো ৯/১১ হামলা প্রতিরোধে মার্কিন সরকারের ব্যর্থতার বিষয়ে বিদ্যমান ঐতিহাসিক মূল্যায়নকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে না। বরং এসব নথি হামলার আগে মার্কিন কর্মকর্তাদের হাতে থাকা গোয়েন্দা তথ্য এবং আল-কায়েদার হুমকি সম্পর্কে তাদের ধারণার আরও বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে। ৯/১১ কমিশনের তদন্তে এর আগে বলা হয়েছিল, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, ব্যবস্থাপনা, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যমান তথ্য যথাযথভাবে বিশ্লেষণ ও কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যর্থতা হামলা প্রতিরোধে সরকারের সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।

গ্রাউন্ড জিরোর বিষাক্ত ধূলিকণার স্বাস্থ্যঝুঁকি

৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে নিউইয়র্কে হামলার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ ও ধূলিকণার সংস্পর্শে আসা হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক, পুলিশ কর্মকর্তা, উদ্ধারকর্মী, নির্মাণশ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য মানুষ পরবর্তী বছরগুলোতে বিভিন্ন গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। নিউইয়র্কের অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ নিয়মিতভাবে এমন সদস্যদের নাম স্মরণ করছে, যারা বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। বিভাগটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯/১১-সংশ্লিষ্ট অসুস্থতায় ৬০০-এর বেশি অগ্নিনির্বাপক মারা গেছেন।

এদিকে নিউইয়র্ক সিটি সরকার বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র এলাকায় হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশের কাজ শুরু করেছে। এসব নথির মধ্যে বায়ুর মান, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং সেই ঝুঁকি সম্পর্কে বাসিন্দা ও কর্মীদের কী তথ্য দেওয়া হয়েছিল, সে-সংক্রান্ত নথিও রয়েছে। নতুন নথি প্রকাশের ফলে হামলার পর লোয়ার ম্যানহাটনের বায়ু ও পরিবেশের ঝুঁকি সম্পর্কে কর্মকর্তারা কী জানতেন এবং কখন তা জনসাধারণকে জানানো হয়েছিল—সে প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।

জাতীয় নিরাপত্তা পররাষ্ট্রনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। কংগ্রেস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় জোরদার করা হয়। বিমানবন্দর ও বিমান ভ্রমণে নিরাপত্তাব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করা হয়। হামলার পর আল-কায়েদা ও তালেবানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০০৩ সালে ইরাকেও সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তী প্রায় দুই দশক ধরে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

এই দুই যুদ্ধে হাজার হাজার মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হন। একই সঙ্গে আফগানিস্তান ও ইরাকে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষও প্রাণ হারান।৯/১১-পরবর্তী সময়ে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ, নজরদারি, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক চলে।

মুসলিম দক্ষিণ এশীয় আমেরিকানদের ওপর প্রভাব

৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম, আরব ও দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও হামলার ব্যাপক প্রভাব পড়ে। হামলার পরবর্তী বছরগুলোতে এসব সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিদ্বেষমূলক অপরাধ, বৈষম্য, জাতিগত ও ধর্মীয় প্রোফাইলিং এবং বাড়তি সরকারি নজরদারির মুখোমুখি হন। তবে একই সময়ে মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পেশাগত জীবনে আরও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের স্মরণ কর্মসূচিতেও তাই হামলায় নিহতদের পাশাপাশি হামলার পরবর্তী সামাজিক ও মানবিক প্রভাবের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে।

টেক্সাসসহ দেশজুড়ে স্মরণ কর্মসূচি

নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভানিয়ার তিনটি প্রধান স্থানের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও শুক্রবার ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মরণসভা, প্রার্থনা, প্রদর্শনী, পতাকা উত্তোলন, বিশেষ অনুষ্ঠান ও অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। টেক্সাসের হিউস্টনে একটি আন্তধর্মীয় স্মরণ অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবীরা ৯/১১ হামলায় নিহত ২ হাজার ৯৭৭ জনের নাম পাঠ করেন। একই অনুষ্ঠানে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে নিহতদেরও স্মরণ করা হয়। দেশটির বিভিন্ন শহরে স্থানীয় বাসিন্দা, অগ্নিনির্বাপক, পুলিশ কর্মকর্তা ও উদ্ধারকর্মীদের স্মরণে পৃথক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। অনেক অনুষ্ঠানে হামলায় নিহত স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিবার এবং ৯/১১-পরবর্তী সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়া উদ্ধারকর্মীদেরও সম্মান জানানো হয়।

২৫ বছর পর নতুন প্রজন্মের কাছে /১১

৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তির সময় যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি প্রজন্ম বড় হয়ে উঠেছে, যারা হামলার দিনটির কোনো ব্যক্তিগত স্মৃতি বহন করে না। ২০০১ সালের পর জন্ম নেওয়া অনেক আমেরিকানের কাছে ৯/১১ এখন ইতিহাসের একটি ঘটনা। তারা হামলার ছবি, ভিডিও, নথি, স্মৃতিচারণ ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সেই দিনের ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে।

তবে নিহতদের স্বজন, হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষ এবং প্রথম সারির উদ্ধারকর্মীদের কাছে ৯/১১ এখনো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘস্থায়ী শোকের বিষয়। নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরো, ভার্জিনিয়ার পেন্টাগন এবং পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে শুক্রবারের কর্মসূচিগুলোতে তাই হামলার রাজনৈতিক বা সামরিক প্রভাবের চেয়ে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণই ছিল প্রধান বিষয়।

২৫ বছর পরও অব্যাহত পর্যালোচনা

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২৫ বছর পরও যুক্তরাষ্ট্রে ওই দিনের ঘটনা এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। সিআইএর নতুন নথি হামলার আগে বিন লাদেন ও আল-কায়েদার তৎপরতা সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে থাকা তথ্যের আরও কিছু বিবরণ সামনে এনেছে। নিউইয়র্কে প্রকাশিত সরকারি নথি হামলার পর বিষাক্ত ধূলিকণা ও বায়ুর মান নিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

অন্যদিকে ৯/১১-পরবর্তী সামরিক অভিযান, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে বিতর্কও এখনো শেষ হয়নি। শুক্রবারের স্মরণ কর্মসূচিতে এসব বিতর্কের পাশাপাশি মূল গুরুত্ব ছিল প্রায় ৩ হাজার নিহত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। নিউইয়র্কে নিহতদের স্বজনেরা তাদের নাম পাঠ করেছেন, পেনসিলভানিয়ায় ফ্লাইট ৯৩-এর ৪০ যাত্রী ও ক্রুকে স্মরণ করা হয়েছে এবং ভার্জিনিয়ায় পেন্টাগনে নিহত ১৮৪ জনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

২৫ বছর পরও ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক দিন হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন নথি, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য এবং হামলার পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্তের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে সেই দিনের ঘটনাগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও জনপর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eighteen + 8 =