অপরাজিত স্পেনের সামনে বেলজিয়াম পরীক্ষা, রেকর্ড নয় জয়ে চোখ লা রোজাদের

টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড, চলতি বিশ্বকাপে এখনও গোল না খাওয়ার কৃতিত্ব এবং দুর্দান্ত ছন্দ—সবকিছুই স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালের অন্যতম ফেবারিটে পরিণত করেছে। তবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে অতীতের পরিসংখ্যান নয়, কেবল ৯০ মিনিটের পারফরম্যান্সেই মনোযোগ দিচ্ছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে স্পেন। জয়ী দল সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলবে।

স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি অলমো বলেছেন, নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই আলাদা এবং প্রতিটি লড়াইকে তারা ফাইনাল হিসেবেই দেখছেন।

তিনি বলেন, “আমরা প্রতিটি ম্যাচকে একটি ফাইনাল হিসেবে খেলি। কোচের বার্তা খুবই পরিষ্কার—পরের ৯০ মিনিটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড নয়, আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি ম্যাচে জয়।”

এই মানসিকতাই স্পেনকে এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করেছে। নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পজেশন-ভিত্তিক ফুটবল, ছোট ছোট পাস এবং বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার পাশাপাশি এবারের স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে তাদের রক্ষণভাগ।

এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে কোনো দলই স্পেনের জালে বল পাঠাতে পারেনি। গোলরক্ষক উনাই সিমনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি পুরো দলের সম্মিলিত রক্ষণকৌশলকে এর মূল কারণ হিসেবে দেখছেন অলমো।

তার ভাষায়, “আমাদের দর্শন হলো সবাই মিলে আক্রমণ করা এবং সবাই মিলে রক্ষণ সামলানো। আমাদের কাছে স্ট্রাইকারই প্রথম ডিফেন্ডার। আমরা যদি জাল অক্ষত রাখতে পারি, তাহলে গোলের সুযোগও তৈরি করতে পারব।”

আক্রমণভাগে তরুণ লামিন ইয়ামাল ও পেদ্রির পারফরম্যান্স স্পেনকে বাড়তি শক্তি জোগাচ্ছে। ইয়ামাল গোলের চেয়ে বেশি অবদান রাখছেন গতি, ড্রিবলিং ও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে পেদ্রি মাঝমাঠে খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে দলের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়েছেন।

অলমো বলেন, “পেদ্রিকে খেলতে দেখা সত্যিই উপভোগ্য। সে মাঠে থাকলে দলের শক্তি কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং আমাদের খেলার পরিকল্পনায় সে অপরিহার্য।”

তবে স্পেন শিবির জানে, বেলজিয়ামকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। শক্তিশালী আক্রমণভাগ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা দিয়ে যে কোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বেলজিয়ানরা। তাই নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই হবে স্পেনের মূল লক্ষ্য।

স্পেনের আরেকটি বড় শক্তি তাদের বেঞ্চের গভীরতা। প্রথম একাদশের বাইরে থাকা খেলোয়াড়রাও ম্যাচের যেকোনো সময় নেমে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন, যা দীর্ঘ টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শিরোপার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যেতে স্পেনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বেলজিয়াম। টানা ৩৫ ম্যাচের অপরাজিত রেকর্ড আত্মবিশ্বাস জোগালেও, নকআউট পর্বে ইতিহাস লেখা হবে মাঠের ৯০ মিনিটের পারফরম্যান্সেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − 2 =